
দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ – প্রচন্ড গরমে বাড়ছে ডাবের চাহিদা। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সাধারণ মানুষজন ডাবের আশ্রয় নিচ্ছেন। তাছাড়া লোকসভা নির্বাচনে প্রচারকার্যের জন্য যে সমস্ত প্রার্থীরা রয়েছেন এবং তাদের সাথে যে সমস্ত নেতার কর্মীরা রয়েছেন তারাও প্রচারের ফাঁকে ডাবের জলে চুমুক দিয়ে তাদের তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন। তাছাড়া চলছে বাসন্তী পূজা এবং রামনবমী। এই দুই পূজাতেও ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী থাকে। সুতরাং ডাবের এই অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির জন্য তাদের দামও বেড়েছে অনেকটাই। বালুরঘাট বাজারে এক একটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। একটু ছোট সাইজের ডাবের দাম গড়ে পড়ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
বালুরঘাটের স্থানীয় তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে সব দলের নেতাদের মুখেএকই কথা , “সত্যি এখন প্রচন্ড গরমে প্রচার চালানোর জন্য ডাবের জল খুব উপকারী। এতে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম এর মাত্রা ঠিক থাকে। শরীরের জলের চাহিদা পূরণে গরমে ডাবের জল একমাত্র অবলম্বন।”
স্থানীয় ডাব ব্যবসায়ীরা ডাবের প্রচন্ড চাহিদা বৃদ্ধি এর দাম বাড়ার অন্যতম কারণ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। বালুরঘাটের ব্যবসায়ী সুমন ভগত বলেন, “এটা ঠিকই এপ্রিল মাসের প্রথম থেকে ডাবের চাহিদা প্রচন্ড বেশি হয়এবং তা বজায় থাকে মে-জুন মাস পর্যন্ত। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় স্থানীয়ভাবে ডাবের যে উৎপাদন হয় তা দিয়ে জেলাবাসীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা কলকাতা থেকে ডাব আনতে বাধ্য হই। স্থানীয়ভাবে ডাবের চাহিদা পূরণ করা গেলে ডাবের দাম হয়তো এতটা বাড়তো না কিন্তু বাইরে থেকে আমদানি করার জন্য পরিবহন খরচ বেশি হয় এবং তার ফলে ডাব কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ডাবের দাম বাড়ার জন্য ডাব ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই দায়ী নন।”
ডাব কিনতে আসা বালুরঘাটের বাসিন্দারা বলেন, “এ বছর সত্যি ডাবের দাম অস্বাভাবিক রকম বেশি। গত বছর পর্যন্ত আমরা একটি বড় ডাব ৩০ বা ৪০ টাকায় কিনেছি। সেই একই ডাব আমরা এ বছর ৭০ বা ৮০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এত বেশি দাম দিয়ে আমরা আগে কখনো ডাব কিনে খাইনি কিন্তু আমাদের কোন উপায় নেই। এখন প্রচন্ড গরম চলছে। বাইরে বেরোলে সূর্যের প্রচন্ড তাপদাহে ডাব কিনে খেলে শরীর ঠান্ডা হয়। তারা বলেছেন শরীরে জলের মাত্রা বজায় রাখতে নিয়মিত ডাবের জল অবশ্যই পান করা উচিত।”
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক সুমন সূত্রধর কে জিজ্ঞাসা করলে মৌখিক ভাবে বলেন, “এখন দক্ষিণ দিনাজপুরের তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এর সাথে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ফলে শারীরিক অসুবিধা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই গরমে প্রয়োজন না পড়লে বয়স্ক মানুষজন বাইরে না বেরোলেই ভালো করবেন। গরমে ডাবের জল অবশ্যই উপকারী।”
রাজনৈতিক নেতা সহ সাধারন মানুশেরা বলেন, “আগামী ৭ দিনে কোন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। গত বছর জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তা তিন চার দিন ধরে কন্টিনিউ ছিল। এবার গত বছরের সেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কে অতিক্রম করে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।”












Leave a Reply