
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—-ভিন রাজ্যের কাজে গিয়ে আবারো পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো ।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু যেন পিছু ছাড়ছেনা জেলা জুড়ে।মুম্বাইয়ের কাজে গিয়ে মুম্বাই থেকে অসুস্থ অবস্থায় মুম্বাই হাওড়া মেল এক্সপ্রেস এ বাড়ি ফিরছিলেন মালদহের, মোথাবাড়ি এলাকার ধরমপুর ত্রিমোহনী এর বাসিন্দা, রমজান সেবজি।কিন্তু সোমবার হঠাৎই ট্রেনের মধ্যে শরীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাওয়ায় বাড়ির লোকজনদের ফোন করে হাওড়া পর্যন্ত আসতে বলে।।
ফোন করেও জানান যে তার মা এবং দুই ছোট্ট ছোট্ট মেয়েদের নিয়ে আসতে তাদের দেখার জন্য।কিন্তু এই পরিযায়ী শ্রমিকের ভাগ্যের কি পরিহাস, দেখা হলো না আর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে।। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ট্রেনে মৃত্যু হয় সেই পরিযায়ী শ্রমিকের।।
মঙ্গলবার পরিবারের লোকজনেরা খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছালে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু দেহ খড়গপুর স্টেশন এর জিআরপি ও স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে উপযুক্ত নথিপত্র দেখিয়ে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাতে রমজান সেবজির কফিন বন্দী দেহ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে বলে পরিবারের লোকেরা জানিয়েছে।।এদিকে ছোট্ট ছোট্ট খুদে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রমজান সেবজির সহধর্মিনী হাসিনা খাতুন।। বিগত ৮ বছর আগে মোথাবাড়ি এলাকারই পঞ্চানন্দপুর পাগলা ঘাট এর এক অসহায় পরিবারের মেয়ে হাসিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল এই রামজান সেবজীর।।
ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা কোনরকমে সমাজের সাহায্য নিয়ে নিজের চিকিৎসা চালাচ্ছেন।।।
অন্যদিকে এমত অবস্থায় ছেলের মৃত্যুতে কার্যত শোকস্তব্দ গোটা পরিবার বর্গ ও গ্রামবাসীরা।।
গ্রামবাসীদের একে অপরের সাহায্যে চাঁদা তুলে খড়গপুর স্টেশন থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রমজান সেবজির নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে ফিরবে বলে জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা।।
প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হাসিনা খাতুন দুই ছোট ছোট নাবালিকা কন্যা সন্তানকে নিয়ে প্রহর গুনছে যাতে এক চিলতে স্বামীর মুখ খানি যেনো কখন দেখতে পায়!!
কার্যত বলা যেতেই পারে অসহায় পরিবারের উপরে যেন আরো একবার আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে।।












Leave a Reply