হরিদ্বার (Haridwar) – গঙ্গার তীরে আধ্যাত্মিক ভ্রমণের পবিত্র দ্বারl

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গঙ্গার তীরে অবস্থিত হরিদ্বার ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন এবং পবিত্র তীর্থস্থান। হিন্দু ধর্মে এটি “মোক্ষের দ্বার” হিসেবে পরিচিত। “হরি” মানে ভগবান বিষ্ণু এবং “দ্বার” মানে প্রবেশদ্বার – তাই নাম হরিদ্বার। এখানে গঙ্গা নদী পাহাড় ছেড়ে সমতলে প্রবেশ করে, যা এই শহরকে আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন করেছে।


কীভাবে পৌঁছাবেন

  • সড়কপথ: দিল্লি থেকে প্রায় ২২০ কিমি। ন্যাশনাল হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি বা বাসে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।
  • রেলপথ: হরিদ্বার জংশন (HW) ভারতের বড় বড় শহরের সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত।
  • বিমানপথ: নিকটতম বিমানবন্দর দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্ট, প্রায় ৩৭ কিমি দূরে।

️ গঙ্গার তীরের সৌন্দর্য

হরিদ্বারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল গঙ্গার তীর। এখানে গঙ্গার জল নির্মল ও শান্ত, আর সকাল ও সন্ধ্যায় গঙ্গার আরতি এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

  • হর কি পউড়ি: হরিদ্বারের প্রাণকেন্দ্র। গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যার সময় গঙ্গা আরতির দৃশ্য হাজার হাজার প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
  • গঙ্গায় স্নান: বিশ্বাস করা হয় এখানে স্নান করলে পাপ মুক্তি হয় এবং আত্মা পবিত্র হয়।

দর্শনীয় স্থান

  • চন্ডী দেবী মন্দির: পাহাড়ের উপর অবস্থিত, কেবল কারে বা হাঁটতে উঠে যাওয়া যায়।
  • মনসা দেবী মন্দির: গঙ্গার অপর পারে, দেবীর আশীর্বাদ পেতে পর্যটকেরা এখানে আসেন।
  • ভারত মাতা মন্দির: সাততলা বিশাল মন্দির যেখানে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চিত্রিত আছে।
  • শান্তিকুঞ্জ: গায়ত্রী পরিবার-এর আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
  • পতঞ্জলি যোগপীঠ: আধুনিক যোগ ও আয়ুর্বেদের কেন্দ্র, স্বামী রামদেবের আশ্রম।

উৎসব ও আয়োজন

হরিদ্বার সারা বছর ভক্ত ও পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে।

  • কুম্ভ মেলা: ১২ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়, বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ।
  • অর্ধ কুম্ভ ও গঙ্গা দশহরা: পুণ্যস্নান ও গঙ্গার আরতি উপলক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন।
  • দীপাবলি ও কার্তিক পূর্ণিমা: হর কি পউড়িতে বিশেষ আলোকসজ্জা হয়।

কী করবেন

  • গঙ্গায় নৌকা ভ্রমণ।
  • সকালে গঙ্গার তীরে বসে ধ্যান করা।
  • স্থানীয় বাজারে ধর্মীয় সামগ্রী, হস্তশিল্প ও আয়ুর্বেদিক পণ্য কেনা।
  • আশ্রমে থেকে যোগ ও ধ্যান শিখতে পারেন।

স্থানীয় খাবার

হরিদ্বারের খাবার মূলত নিরামিষ।

  • আলু পুরি, কচুরি, লস্যি এবং গরম জিলাপি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
  • গঙ্গার ঘাটের আশেপাশের রাস্তার ধারের দোকানে সস্তায় ও সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

ভ্রমণের সেরা সময়

  • অক্টোবর থেকে মার্চ: ঠাণ্ডা ও মনোরম আবহাওয়া।
  • কুম্ভ মেলার সময়: আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার জন্য সেরা সময়।
  • গরমকালে (এপ্রিল-জুন) গঙ্গার তীরে ঠাণ্ডা হাওয়া ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তোলে।

উপসংহার

হরিদ্বার শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার স্থান। গঙ্গার ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা, সন্ধ্যার গঙ্গা আরতিতে হাজার প্রদীপের আলোয় ভেসে যাওয়া – এমন অভিজ্ঞতা মনে গভীর শান্তি এনে দেয়। প্রকৃতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এই মিলনস্থল প্রতিটি ভ্রমণকারীর মনে আজীবনের স্মৃতি তৈরি করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *