
উত্তরাখণ্ডের গড়ওয়াল অঞ্চলের মনোরম হিমালয় কোলে অবস্থিত যমুনোত্রী হল গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রিনাথের সঙ্গে চারধামের একটি। এটি যমুনা নদীর উৎসস্থান এবং দেবী যমুনার পূজাস্থল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,২৯৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত যমুনোত্রী ভ্রমণ ভক্তদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বপ্নের মতো এক গন্তব্য।
কীভাবে পৌঁছাবেন
- নিকটতম শহর: হরশিল বা বারকোট।
- সড়কপথ: ঋষিকেশ, হরিদ্বার বা দেরাদুন থেকে বাস/গাড়িতে বারকোট পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।
- বারকোট থেকে জংকিচট্টি পর্যন্ত সড়কপথে গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৫ কিমি ট্রেক করে যমুনোত্রী পৌঁছাতে হয়।
- নিকটতম রেলস্টেশন: ঋষিকেশ (প্রায় ২১৫ কিমি)।
- নিকটতম বিমানবন্দর: দেরাদুনের জলি গ্রান্ট (প্রায় ২১০ কিমি)।
যমুনোত্রী মন্দির
যমুনোত্রী মন্দির ১৯শ শতকে গড়ওয়ালের মহারানি গুলেরিয়া দেবী দ্বারা নির্মিত।
- মন্দিরে দেবী যমুনার কালো মার্বেলের মূর্তি স্থাপিত।
- মন্দিরটি বরফঢাকা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এবং ভক্তদের কাছে পাপমোচনের স্থান হিসেবে বিবেচিত।
- এখানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় আরতি হয় এবং বিশেষ করে অক্ষয় তৃতীয়ায় হাজার হাজার ভক্ত এখানে সমবেত হন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
যমুনোত্রী পৌঁছানোর পথ মনোরম – ঘন বন, গর্জন করা ঝর্ণা, বরফঢাকা শিখর এবং নীলাভ আকাশ পথিককে মুগ্ধ করে। পথে ছোট ছোট চা দোকান, কাঠের সেতু এবং বুনো ফুলের সৌন্দর্য আপনাকে পাহাড়ি জীবনের আস্বাদ দেবে।
গরম ঝর্ণা – সুর্যকুণ্ড ও গৌরিকুণ্ড
যমুনোত্রীর অন্যতম আকর্ষণ হল গরম জলকুণ্ড।
- সুর্যকুণ্ড: এখানে গরম পানিতে ভক্তরা চাল ও ডাল বেঁধে ডুবিয়ে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন।
- গৌরিকুণ্ড: ঠান্ডা জলের ছোট একটি কুণ্ড, যেখানে পা ডুবিয়ে ভ্রমণকারীরা শান্তি অনুভব করেন।
♂️ যমুনোত্রী ট্রেক
- যমুনোত্রীর ট্রেক প্রায় ৫ কিমি এবং মধ্যম স্তরের।
- যারা হাঁটতে পারেন না, তাদের জন্য ঘোড়া, খচ্চর এবং পালকিতে চড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
- পুরো পথে বরফঢাকা শিখর ও যমুনার কলকল ধারা আপনাকে সঙ্গ দেবে।
ভ্রমণের সেরা সময়
- মে থেকে অক্টোবর: এই সময় মন্দির খোলা থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে।
- শীতকালে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল) ভারী তুষারপাতের কারণে মন্দির বন্ধ থাকে এবং দেবীর পূজা খরসালি গ্রামে স্থানান্তরিত হয়।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
হিন্দু পুরাণে বলা হয়েছে যে, যমুনা হল সূর্যদেব ও সরণ্যা দেবীর কন্যা এবং মৃত্যুর দেবতা যমের বোন। যমুনায় স্নান করলে মৃত্যু ও রোগ থেকে মুক্তি মেলে – এই বিশ্বাসে ভক্তরা এখানে আসেন।
উপসংহার
যমুনোত্রী ভ্রমণ একদিকে শারীরিক কষ্টসাধ্য তীর্থযাত্রা, অন্যদিকে এক প্রশান্ত আত্মিক অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির কোলে দাঁড়িয়ে যমুনার প্রথম স্রোত দর্শন, গরম কুণ্ডে প্রসাদ রান্না এবং মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে আরতির আবেশ – সব মিলিয়ে যমুনোত্রী ভ্রমণ প্রত্যেক ভক্তের জীবনে একবার হলেও হওয়া উচিত।












Leave a Reply