রাস্তা খারাপ,এম্বুলেন্স ঢুকতে পারেনি গ্রামে,বাধ্য হয়ে মৃতদেহ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে বাড়িতে, এমনই চিত্র দেখা গেল কেশপুরে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- দীর্ঘ একবছরেরও বেশি রাস্তার হাল বেহাল, খানাখন্দে ভরা রাস্তা, কাদামাড়িয়ে চলতে হয় মানুষজনদেরকে। এলাকায় রয়েছে দুটো স্কুল সেই সব ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও যেতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। এম্বুলেন্স বা কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না এই গ্রামে, গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় ডুলিতে করে। এবার গ্রামের রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স না ঢুকায় কাদা মাড়িয়ে কাঁধে করে মৃতদেহ আনতে দেখা গেল গ্রামবাসীদের। এমনই মর্মান্তিক চিত্র উঠে এলো কেশপুরের ১৫ নম্বর অঞ্চল এনায়েতপুরের চাথলা গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার মন্ডল সর্দি কাশি জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। সেই সময় তাকে ডুলিতে করে নিয়ে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। শনিবার তার মৃত্যু হয় হাসপাতালে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের মুখে মূল রাস্তায় নিয়ে আসা হলেও গ্রামের মধ্যে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি রাস্তা খারাপের জন্য। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা অ্যাম্বুলেন্স এর স্ট্রেচার কাঁদে নিয়ে খানাখন্দ ভরা রাস্তায় কাদা মাড়িয়ে মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ দীর্ঘ এক বছরের বেশি ধরে দোষতিনা হরিমন্দির থেকে ক্যানেলপাড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা এরকমই কর্দমাক্ত এবং খানাখন্দে ভরা। যার ফলে গ্রামে কোন এম্বুলেন্স বা চার চাকা ঢুকতে পারেনা। বাধ্য হয়েই গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে ডুলিতে করে বা কাঁধে করে গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে মূল রাস্তায় গিয়ে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠাতে হয়। তাদের আরো অভিযোগ বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও আজও পর্যন্ত রাস্তার কোনো কাজ হয়নি। ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু বারবার বলা সত্ত্বেও এই রাস্তার সমাধান কোন রাজনৈতিক দল করেনি বলেই এরা গ্রামবাসীদের অভিযোগ। উল্লেখ্য, প্রায় সাত মাস আগে একই রকম ভাবে এই রাস্তার উপর দিয়ে অসুস্থ রোগীকে ডুলিতে করে নিয়ে যাওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন কেশপুরের বিডিও এলাকা পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন খুব দ্রুত রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও আজও পর্যন্ত সেই রাস্তা আজও তৈরি হয়নি এই নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীদের মধ্যে। তাদের বক্তব্য যেহেতু এই এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির তাই হয়তো রাজনৈতিক ভাবে রাস্তা তৈরি করছে না তৃণমূল সরকার।
স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা সোমা মূর্মু টুডু বলেন, তিনি বিডিও কে এবং পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সহ-সভাপতি কে বারবার এই রাস্তা নিয়ে বলেছেন, বিডিও নিজে এসে রাস্তা দেখে গিয়েছেন ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছেন তারপর বলেছিলেন রাস্তা তৈরি হবে। কিন্তু এখনো কেন রাস্তা হচ্ছে না আমি বুঝতে পারছি না। যেহেতু বিরোধী দলের পঞ্চায়েত সদস্যা আমি হয়তো সেই কারণে রাস্তা হচ্ছে না এমনটাই তার বক্তব্য।
কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্ত গরাই বলেন, কেশপুরে ৭৮ টি রাস্তা হবে, ওই রাস্তাটি জন্য গ্রামবাসীরা দরখাস্ত দিয়েছিল ওটাও হবে তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে কবে রাস্তার কাজ শুরু হবে সেটা দ্রুত আমরা জানিয়ে দেব। কোন রাজনৈতিক দল না দেখেই উন্নয়নের কাজ হবে।
কেশপুরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এটাও ঠিক কেশপুরের বহু রাস্তা পাকা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্য বেশ কিছু রাস্তা পড়ে রয়েছে যেগুলো এখনো পর্যন্ত হয়নি। আমি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে এবং এলাকার বিধায়ক হিসেবে এই রাস্তার কথা আমি দপ্তরে দিয়েছি। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ থেকে রাস্তাটি দেখে গেছে। শুধু এই রাস্তা নয় আরো অনেকগুলো রাস্তার প্রপোজাল আমার দপ্তরে দিয়েছি। রাস্তা তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকেও তিনি জানাবেন বলে জানান। পাশাপাশি রাস্তা তৈরি করতে একটি পয়সাও না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেও এক হাত নেন তিনি।
এখন দেখার দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা নিয়ে সমস্যায় পড়ে থাকা গ্রামের মানুষজনদের কবে সুরাহা হয়, কবেই তারা নতুন রাস্তা পায় সেদিকেই আমাদের নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *