
থাইল্যান্ডের আন্দামান উপকূলে অবস্থিত ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ (Phi Phi Islands) পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ট্রপিক্যাল গন্তব্যগুলোর একটি। স্বচ্ছ নীল জল, সাদা বালির সৈকত, উঁচু চুনাপাথরের পাহাড় আর রঙিন সামুদ্রিক জীব—সব মিলিয়ে ফি ফি এমন এক জায়গা, যেখানে প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য উন্মুক্ত করে ধরে।
ফুকেট বা ক্রাবি থেকে স্পিডবোটে মাত্র ৪৫–৬০ মিনিটের পথ, কিন্তু পৌঁছামাত্রই মনে হয় যেন পুরো পৃথিবী বদলে গেছে—আরও নীল, আরও উজ্জ্বল, আরও প্রশান্ত।
ফি ফি দ্বীপের পরিচয় – ছয়টি দ্বীপের রূপকথা
ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ মোট ছয়টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে দু’টি সবচেয়ে জনপ্রিয়—
১. ফি ফি ডন (Phi Phi Don)
এটাই সবচেয়ে বড় এবং বসতিপূর্ণ দ্বীপ। এখানে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, নাইটলাইফ, বিচ ক্লাব—সবই রয়েছে।
২. ফি ফি লে (Phi Phi Leh)
এখানে রয়েছে ‘দ্য বিচ’ সিনেমার বিখ্যাত মায়া বে (Maya Bay)।
এই দ্বীপে থাকা যায় না—শুধু দিনের বেলা ভ্রমণ।
অন্য ছোট দ্বীপগুলো—বামবু আইল্যান্ড, মোস্কিটো আইল্যান্ড, ভিডিং আইল্যান্ড—ফটোজেনিক, শান্ত এবং নিরিবিলি।
মায়া বে – নীল সমুদ্রের হৃদয়ে স্বপ্নের উপসাগর
বিশ্বের সবচেয়ে ফটোজেনিক সৈকতগুলোর মধ্যে একটি মায়া বে।
✔ নীল-সবুজ পানির ওপর সূর্যের আলোয় ঝিলিক
✔ চারপাশে খাড়াভাবে ওঠা চুনাপাথরের পাহাড়
✔ সাদা মসৃণ বালির তীর
✔ সমুদ্রের টারকয়েজ রঙ
১৯৯৯ সালে “The Beach” সিনেমার শুটিংয়ের পর দ্বীপটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়।
পরিবেশ রক্ষার জন্য মায়া বেকে মাঝে মাঝে বন্ধ রাখা হয়—তাই যাওয়ার আগে আপডেট চেক করা ভালো।
পাইলেহ ল্যাগুন – পান্না-সবুজ পানির লুকিয়ে থাকা স্বর্গ
ফি ফি’র আরেক বিস্ময় Pileh Lagoon।
✦ পানির রং এতটাই পরিষ্কার যে নৌকার ছায়াও নিচে দেখা যায়
✦ চারদিকে পাহাড়ের প্রাচীর, যেন বৃহৎ প্রাকৃতিক অ্যাকোয়ারিয়াম
✦ এখানে সাঁতার কাটা এক অপরূপ অভিজ্ঞতা
অনেকেই এটিকে “ফি ফি’র জুয়েল” বলে।
ভাইকিং কেভ – ইতিহাসের গুপ্ত রহস্য
ফি ফি লে দ্বীপে অবস্থিত Viking Cave-এ রয়েছে প্রাচীন চিত্র, যেখানে নৌকার অদ্ভুত আকৃতি আঁকা আছে।
এটি—
• কিংবদন্তি পূর্ণ
• বার্ডস নেস্ট স্যুপ সংগ্রহের কেন্দ্র
• নৌকা থেকেই দেখা যায়, ভিতরে প্রবেশ সাধারণত নিষিদ্ধ
ফি ফি ডন – প্রাণবন্ত দ্বীপ জীবনের কেন্দ্র
ফি ফি ডন দ্বীপেই পর্যটকরা থাকেন। ছোট হলেও এখানে সবই আছে—
✔ টনসাই বে
সমুদ্রের সামনে সুন্দর ক্যাফে, দোকান, রেস্টুরেন্ট।
✔ লোহ দালাম বে
নাইটলাইফ, বিচ ক্লাব, আগুনের শো—ব্যাকপ্যাকারদের প্রিয় জায়গা।
✔ ভিউপয়েন্ট
এক ঘণ্টা পাহাড়ে উঠলে ফি ফি দ্বীপের হৃদয়কাড়া দৃশ্য চোখে পড়বে।
উঁচু থেকে দেখা নীল সমুদ্র, দ্বীপের বাঁক, সব মিলিয়ে দৃশ্যটি হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ধনী সামুদ্রিক জীবন – স্নরকেলিং ও ডাইভিংয়ের স্বর্গ
ফি ফি স্নরকেলিং এবং ডাইভিংয়ের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। পানির নিচে—
✦ রঙিন ট্রপিক্যাল মাছ
✦ প্রবাল
✦ নীল স্টারফিশ
✦ ক্লাউনফিশ
✦ সামুদ্রিক কচ্ছপ (কখনো দেখা যায়)
সব মিলিয়ে পানির নিচের জগৎ আলাদা এক রূপকথা।
Longtail Boat ট্যুর নিয়ে স্নরকেলিং করলে অভিজ্ঞতা হবে আরও সুন্দর।
বামবু আইল্যান্ড – শান্ত, সাদা বালু আর নীরবতা
যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত সমুদ্র চায়, তাদের জন্য Bamboo Island স্বপ্নস্থান।
✔ সাদা, নরম বালির সমুদ্র
✔ কম মানুষ
✔ নীল জলের মাঝে নিভৃত সৌন্দর্য
এটি ফটো-প্রেমীদের জন্যও আদর্শ।
ফি ফি খাবার – সাগরের স্বাদ
ফি ফি ডনে খাওয়ার জন্য অসংখ্য রেস্টুরেন্ট আছে।
✨ গ্রিলড সিফুড
✨ থাই প্যাড থাই
✨ টম ইয়াম গুঁং
✨ ম্যাংগো স্টিকি রাইস
✨ নারকেলের আইসক্রিম
নাইট মার্কেটে সস্তায় দুর্দান্ত খাবার পাওয়া যায়।
কেন ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ বিশেষ?
✔ বিশ্বের সেরা সৈকতগুলোর একটি
✔ সিনেমার মতো ল্যান্ডস্কেপ
✔ অবিশ্বাস্য নীল জল
✔ স্নরকেলিং ও ডাইভিংয়ের চমৎকার সুযোগ
✔ রোমান্টিক, পরিবার-বান্ধব, অ্যাডভেঞ্চার—সবই একসঙ্গে
✔ নৌভ্রমণের জাদুকরী অভিজ্ঞতা
ফি ফি এক নজরে দেখে মনে পড়ে—
স্বর্গ যদি কোথাও থাকে, তবে এমনই দেখায়।
শেষ কথা
ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ শুধু থাইল্যান্ড নয়—পুরো এশিয়ার অন্যতম মোহময় ভ্রমণকেন্দ্র।
এখানে প্রকৃতি তার সেরা রূপটুকু বিলিয়ে দেয়—নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, সূক্ষ্ম বালুকাবেলা আর শান্ত রাতের রূপকথা।
আপনি যদি আন্দামান উপকূল ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন—
ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আপনার তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত।












Leave a Reply