
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- অনুপ্রবেশ রুখতে গেলে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত এলাকা অর্থাৎ যেখানে কাঁটাতার নেই সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার , রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বহুবার জমি অধিগ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছেন কিন্তু রাজ্য সরকারের উদাসীনতার ফলে এখনো জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হলো না । যেখানে কৃষকরা দেশ রক্ষার স্বার্থে তাদের বহু ফসলি জমি কাঁটাতারের বেড়ার কাজ জন্য জমি দিতে চায় । আজকে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের এই বিষয়ে কোন হেল দোল নেই এমনটাই অভিযোগ উঠছে ।
মালদা জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এখনো জলপথ ও স্থল পথ নিয়ে ৩৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার নেই মালদা জেলার হবিবপুর, বামন গোলা, থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও স্থলপথের অধিকাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই
বিএসএফ জওয়ানরা তারা কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেছে এলাকা কাঁটাতার বিহীন এলাকায় কৃষকদের
জমি রয়েছে সেখানে কৃষকদের জমিতে চাষ করতে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে ক্ষেত্রে বিএসএফ জওয়ানরা কৃষকদের করা নিরাপত্তা দিচ্ছে।
সম্প্রীতি ১৭ই জানুয়ারি মালদায় পরিবর্তন সংকল্প সভায় অংশগ্রহণ করতে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যে অনুপ্রবেশকে তুলে ধরেন তিনি জানান রাজ্য সরকার কে কেন্দ্রীয় সরকার এই কাঁটাতারের বেড়ার কাজ সম্পন্ন করার জন্য পাঁচ বার চিঠি দিয়েছে। কারণ কাঁটাতারের বেড়া করতে গেলে চাই জমি সে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকার কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ।
মালদার হবিবপুর ব্লকের সিঙ্গাবাদ, তিলাসন, জোত কোভির,, এলাকায় বহু কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন মাপজোগ শুধু করেছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করেনি । এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করছেন দু বছর আগে জেলা প্রশাসন কর্তারা এসে জমি মাপ যোগ করে চলে গিয়েছে কিন্তু এখনো অব্দি তাদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করেনি না । কোন টাকা পয়সা দেয়নি। এদিকে কৃষকরা দেশ রক্ষার স্বার্থে তাদের জমি দিতে চান । কারণ আজকে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার ফলে অনেক সময় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের থেকে দুষ্কৃতীরা এসে কৃষকদের বহু ফসল কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে । কৃষকদের দাবি অবিলম্বে সরকার এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কড়া পদক্ষেপ নিক । কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিক গ্রহণ করুক ।
আর এই জমি অধিগ্রহণ কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানো তোর
হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু জানান কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার রাজ্য সরকারের কাছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে জমি চাচ্ছে । রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনো রকম উদ্যোগ গ্রহণ করছে না । রাজ্য সরকার এই বিষয়টি নিয়ে নাটক করছেন। আজকে আমরা যেখানে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি তখন রাজ্য সরকার সীমান্তে এই কাঁটাতারের বেড়ার কাজ সম্পূর্ণ করছে না । কারণ রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশের পক্ষে । কারণ অনুপ্রবেশ দিয়েই তারা ভোট করছেন । যতই অনুপ্রবেশ বাড়বে ততই তৃণমূলের ভোট বাড়বে । এই বিষয়ে সরকার পুরোপুরি দায়ী ।
মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু জানান কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে বলেছিলেন সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে দাওয়া হবে। ১৫ লক্ষ তো দূরের কথা ১৫ পয়সাও কারো একাউন্টে জমা পড়েনি। কিছুদিন আগে মালদায় এসে এক জন সভাতে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে জমি আমাদের সরকার এখনো দেয়নি আমরা বহুবার রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছি। এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে ।
অনুপ্রবেশের করার মূল কারিগর হচ্ছে বিজেপি । বিজেপি নিজেরাই অনুপ্রবেশ করাচ্ছে আর আমাদের সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করছে । দেশ রক্ষার স্বার্থে আমাদের সরকার সম্পূর্ণভাবে এগিয়ে এসেছে । কেন্দ্রীয় সরকার যা বলেছে সে ক্ষেত্রেই আমাদের সরকার এগিয়ে এসেছে । আসলে কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে বদনাম করার চেষ্টা করছে । কিন্তু সেটা হবে না ।
হবিবপুর ব্লকের বি এল আর ও স্বপন তরফদার জানান সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার লাগানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের জমির চিহ্নিত করে মাপ যোগ করা হয়েছে ।
হবিবপুর ব্লকের ধুমপুর, বৈদ্যপুর ,ও জাজল তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।যেহেতু এখন এসআইআর চলছে সে ক্ষেত্রে একটু জমির অধিকরণের কাজটি থেমে রয়েছে। মাপ যোগের সময় যে সমস্ত সীমান্তে কৃষকদের জমি পড়েছে সে সমস্ত কৃষকদের ফেব্রুয়ারি ত মাসেই রেজিস্ট্রেশন হবে ।












Leave a Reply