
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর:- জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটিতে এখন রাজনীতির তপ্ত হাওয়া। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী কেন্দ্র এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম হটস্পট। একদিকে যেমন বর্তমান বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর শিবিরের দাবি—”টিকিট নিশ্চিত”, ঠিক তখনই উল্টো সুর গাইছে রাজনীতির অন্দরমহল। একঝাঁক হেভিওয়েট নামের ভিড়ে শালবনীর আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ হাসি কে হাসবেন?
সম্প্রতি হঠাৎ করে রামচন্দ্র পালের নাম ভেসে উঠে এবং সোশ্যাল মিডিয়া একটি ‘ভিডিও’ ওলটপালট করে দেয় সব সমীকরণ।
শালবনীর রাজনীতিতে প্রথম বড় ধাক্কাটি আসে এই রামচন্দ্র পালের ভিডিওটি ঘিরেই। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই জল্পনার দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই একটি ঘটনাই প্রার্থী নির্বাচনের পুরনো সব হিসেব নিকেশ ওলটপালট করে দিয়েছে। রামচন্দ্র পালের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ময়দানে ঢুকে পড়েছে একাধিক ‘হেভিওয়েট’ নাম।
টিকিটের লড়ায়ে এই এক আসনে অনেক দাবিদার!
গোপন সূত্রের খবর, শালবনীর টিকিটের দৌড়ে এখন কার্যত মেলা বসেছে। তালিকায় রয়েছেন
দেবাংশু ভট্টাচার্য দলের দাপুটে যুবনেতা ও সুবক্তা হিসেবে যাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।
উত্তরা সিংহ হাজরা ও সুজয় হাজরা যারা এলাকার দীর্ঘদিনের সংগঠন সামলানো এই পরিচিত মুখদের নিয়ে জনমানসে প্রবল কৌতূহল।
নির্মাল্য চক্রবর্তী ও নির্মল ঘোষ যাঁদের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে দলের অন্দরে যথেষ্ট চর্চা হয়।
সন্দীপ সিংহ যাঁর নামও এখন শালবনীর অলিতে-গলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।
একদিকে শ্রীকান্ত মাহাতো শিবিরের দাবি, বিগত বছরগুলোতে শালবনীতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এবং সেই উন্নয়নের নিরিখেই টিকিট তাঁর প্রাপ্য। অন্যদিকে, বিরোধীদের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ কি প্রার্থী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। কখনও তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন জুন মালিয়ার প্রতি বিরূপ মন্তব্য করে। আবার কখনও আদিবাসীদের কোন উন্নয়ন হয়নি বলতে গিয়ে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন। শালবনীর একটি জায়গায় শ্মশান দখলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
এমতাবস্থায় শ্রীকান্ত মাহাতো অনুগামীরা যখন দেওয়াল লিখনের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই কলকাতার সদর দপ্তরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য গুঞ্জন। শালবনী কি তবে নতুন কোনো চমক দেখতে চলেছে আগামী দিনে? কোনো ‘তরুণ তুর্কি’ না কি অভিজ্ঞ কোনো পুরনো মুখ—কার ওপর ভরসা রাখবে শীর্ষ নেতৃত্ব?
“জল্পনা তো অনেকেই করে, কিন্তু মাঠের লড়াইটা আমরাই লড়ি। টিকিট শ্রীকান্তদাই পাবেন,” আত্মবিশ্বাসের সুরে জানালেন স্থানীয় এক দাপুটে নেতা। কিন্তু রাজনীতির খেলায় যে কোনো মুহূর্তে পাশা উল্টে যেতে পারে, আর সেই আশঙ্কাই এখন শালবনীর অলিতে-গলিতে আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে।












Leave a Reply