
দক্ষিণ দিনাজপুর-কুশমন্ডি, নিজস্ব সংবাদদাতা :- রাত নামলেই বদলে যাচ্ছে গ্রামের চেনা দৃশ্য। উর্বর ফসলি জমি রাতারাতি পরিণত হচ্ছে গভীর গর্তে, আর সেই কাটা মাটি পাচার হচ্ছে ইটভাটায়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কুশমন্ডি ব্লক-এর ২ নম্বর করঞ্জি অঞ্চলের বালাশপুর এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, এখানে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে মাটি মাফিয়াদের একটি চক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে বালাশপুর ও সংলগ্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে জেসিবি মেশিন নামিয়ে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। জমির চরিত্র পরিবর্তনের কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়াই এই কাজ চলছে বলে অভিযোগ। কাটা মাটি ট্রাক ও ডাম্পারে বোঝাই করে স্থানীয় ইটভাটাগুলিতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি, অন্যদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতেই শেষ নয়। ভারী ডাম্পারের অবিরাম যাতায়াতে কার্যত ভেঙে পড়েছে গ্রামের প্রধান রাস্তা। গ্রামবাসীদের কথায়, “রাস্তার যা অবস্থা, তাতে মানুষ তো দূরের কথা, সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কঠিন। রাস্তার প্রাণটাই যেন বেরিয়ে গেছে।”
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে আগামী রবিবার করঞ্জি অঞ্চলের বেতাহারে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী শিব মেলাকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর এই মেলায় বহু দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে এ বছর দর্শনার্থীদের যাতায়াত নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাস্তার এই কঙ্কালসার চেহারা মেলার আয়োজনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই বেআইনি কারবার চলছে তা বোধগম্য নয়। তাদের দাবি, অবিলম্বে পুলিশ ও ভূমি সংস্কার দপ্তর যৌথভাবে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাটি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক এবং শিব মেলার আগে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং শিব মেলার আগে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়।












Leave a Reply