
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বেআইনি ভাবে আধার কার্ড তৈরির অভিযোগে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আধার সংক্রান্ত নথি, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শরণপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চে কর্মরত সিভিক ভলেন্টিয়ার ওমর ফারুক, বিহারের আমদাবাদ এলাকার বাসিন্দা রাজু কুমার শর্মা এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের বারদুয়ারী এলাকার বাসিন্দা অঙ্কিত কুমার শর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ, ওমর ফারুকের বাড়ি থেকেই বেআইনি আধার কার্ড তৈরির কাজ চলছিল। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে আধার কার্ড তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছে। ধৃত ওমর ফারুকের স্ত্রী ফারহানা রহমানি সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সদস্যা বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জাল পরিচয়পত্র তৈরির মাধ্যমে বেআইনি অনুপ্রবেশে সহায়তার মতো বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্তভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিহারের এক যুবকের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আধার সংক্রান্ত নথি তৈরি করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ওই পরিচয়পত্র অভিযুক্তদের হাতে কীভাবে এল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতদের চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচয়পত্র জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।












Leave a Reply