
পরিচিতি:- চচ্চড়ি বাঙালি রান্নার একটি অতি পরিচিত, সহজ অথচ অত্যন্ত সুস্বাদু নিরামিষ পদ। বিভিন্ন ধরনের সবজি একসঙ্গে অল্প মশলায় রান্না করে মাখামাখা করে নেওয়াই চচ্চড়ির মূল বৈশিষ্ট্য। এটি যেমন সাধারণ দুপুরের খাবারে মানায়, তেমনই নিরামিষ ভোজেও এর আলাদা স্থান আছে। অনেক সময় ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন সবজি একত্র করে তৈরি করা হয় বলে এটিকে ঘরোয়া রান্নার এক অনন্য উদাহরণও বলা যায়।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)-‐—
আলু – ২টি
বেগুন – ১টি
কুমড়ো – ১ কাপ
ঝিঙে – ১টি
কাঁচা কলা – ১টি
পটল – ৪টি
কাঁচা লঙ্কা – ৪–৫টি
কালোজিরে – ½ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
সরিষার তেল – ৩ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – ½ চা চামচ
প্রণালী:—-
১. সব সবজি সমান আকারে লম্বা বা চৌকো করে কেটে ধুয়ে নিন।
২. কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে কালোজিরে ও চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন।
৩. প্রথমে আলু, কাঁচা কলা ও পটল দিয়ে ৩–৪ মিনিট ভেজে নিন।
৪. এরপর বাকি সব সবজি একে একে দিয়ে দিন।
৫. হলুদ, লবণ ও চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন।
৬. খুব অল্প জল ছিটিয়ে কড়াই ঢেকে দিন।
৭. মাঝারি থেকে কম আঁচে সবজি নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
৮. মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে কড়াইতে লেগে না যায়।
৯. সবজি নরম হয়ে গেলে আঁচ বাড়িয়ে জল শুকিয়ে মাখামাখা করে নিন।
১০. শেষে আরও একটি কাঁচা লঙ্কা চিরে দিয়ে ২ মিনিট ঢেকে রেখে নামিয়ে নিন।
পরিবেশন:—
গরম ভাতের সঙ্গে চচ্চড়ি পরিবেশন করুন। ডাল, ভাজা বা মাছের ঝোলের সঙ্গে এটি খুব ভালো লাগে।
কিছু টিপস:—
চচ্চড়িতে নিজের পছন্দমতো সবজি যোগ করা যায়, যেমন শিম, সজনে ডাঁটা বা মুলো।
জল খুব কম ব্যবহার করবেন, কারণ চচ্চড়ি মাখামাখা হয়।
কাঁচা লঙ্কার পরিমাণ একটু বেশি হলে স্বাদ আরও ভালো লাগে।
পুষ্টিগুণ:—
বিভিন্ন সবজির সমন্বয়ে তৈরি হওয়ায় চচ্চড়িতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ থাকে। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং শরীরকে পুষ্টি জোগাতে সহায়ক।
রন্ধন-ঐতিহ্য:–
চচ্চড়ি বাংলা ঘরোয়া রান্নার এক ক্লাসিক উদাহরণ। খুব অল্প উপকরণে, অল্প সময়ে এবং কম খরচে সুস্বাদু খাবার তৈরির দক্ষতা বাঙালি গৃহিণীদের রান্নাঘরে যে কতটা সমৃদ্ধ, চচ্চড়ি তারই প্রমাণ। আজও গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই এই পদ সমানভাবে জনপ্রিয়।
রেসিপি ।। চচ্চড়ি।।।












Leave a Reply