১৮ বছরেও নিজস্ব রাস্তা নেই হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজে, সাংসদ খগেন মুর্মুর কাছে সমাধানের দাবি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজের নিজস্ব যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের অন্যের জমির ওপর দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে কলেজ-সংলগ্ন সেতুর কাজ। এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবিতে সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে কাছে পেয়ে দাবি জানান কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল কলেজে যাওয়ার জন্য একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা সেতুর কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করা। পাশাপাশি কলেজে ক্যান্টিন, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালু, খেলার মাঠের সংস্কার, সাইকেল ও মোটরবাইক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার শূন্যপদ পূরণের দাবিও জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী শৈলেন সরকার এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তৎকালীন বিধায়ক তজমুল হোসেনের উদ্যোগে ১৮ বিঘা জমির ওপর হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১২ বিঘা জমি দান করে পিপলা পল্লী সমিতি এবং বাকি ৬ বিঘা জমি সরকার ক্রয় করে। তবে কলেজ প্রতিষ্ঠার পরও নিজস্ব রাস্তা তৈরি না হওয়ায় আজও অন্যের জমির ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। কাঁচা রাস্তা হওয়ায় বর্ষাকালে সেখানে জল জমে কাদার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন পড়ুয়া ও শিক্ষকরা। প্রায় আট বছর আগে কলেজে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্লকের উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে একটি সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেতুর কাজও মাঝপথে থেমে যায়। এরপর থেকে সেতুটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কলেজের ছাত্র কৃষ্ণ দাস, প্রতীক মণ্ডল ও যুতি চৌধুরী বলেন, কলেজের সবচেয়ে বড় সমস্যা রাস্তা। এছাড়া ক্যান্টিন নেই, উন্নত মানের গ্রন্থাগার নেই। শুধু কলা বিভাগ রয়েছে। বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালুর দাবি জানাচ্ছি। খেলার মাঠেরও বেহাল অবস্থা। সাইকেল ও মোটরবাইক রাখার জন্য পার্কিং নেই। শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে। এসব সমস্যার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী নিয়মিত কলেজে আসতে পারে না। তাই সাংসদ খগেন মুর্মুর কাছে আমাদের দাবিগুলি তুলে ধরেছি। হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. সুমিত নন্দী বলেন, কলেজে দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষা ও অশিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ৩১। দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে একাধিক সমস্যা রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার সাংসদ খগেন মুর্মুর কাছেও বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, সাংসদ খগেন মুর্মু কলেজের সমস্যা ও দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *