
পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: মায়ের বকুনিতে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া অর্ণব দাস। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
জানা গিয়েছে, নাদনঘাট থানার অন্তর্গত গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্ণব দাস গতকাল দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ মায়ের বকুনিতে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিকেল ৫টা নাগাদও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা। এরপর পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। খবর দেওয়া হয় নাদনঘাট থানার পুলিশকেও।
কোনওরকম বিলম্ব না করে অর্ণবের ছবি ও নিখোঁজের খবর সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ, এলাকার বাসিন্দা এবং আরপিএফের তরফেও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু গতকাল দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েও অর্ণবের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই আসে স্বস্তির খবর। গোয়ালডাঙারি এলাকার বাসিন্দা নিতাই বসাক বেঙ্গালুরুতে কাজ করতেন। তাঁর মায়ের মৃত্যু হওয়ায় তিনি বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে অর্ণবের নিখোঁজের ছবি দেখেছিলেন তিনি। একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় অর্ণবকে চিনতেও তাঁর অসুবিধা হয়নি।
বাড়ি ফেরার পথে ব্যান্ডেল স্টেশনে নিতাই বসাকের নজরে আসে একটি শিশু। স্টেশনের একটি বেঞ্চে বসে থাকা শিশুটিকে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, ওই শিশুই নিখোঁজ অর্ণব।
এরপর আর কোনও বিলম্ব না করে নিতাই বসাক অর্ণবকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রগড় রেলস্টেশনে আসেন এবং নাদনঘাট থানার পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশের হাতে অর্ণবকে তুলে দেওয়া হয়।
নিজের মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফেরার পথেও নিতাই বসাক নিজের কর্তব্য থেকে পিছিয়ে যাননি। বাড়ি না ফিরে তিনি নিখোঁজ শিশুটিকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁর এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
অর্ণবকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন তার মা। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার সেই মুহূর্তে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে গোটা পরিবার।
একদিকে পুলিশের তৎপরতা, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, আরপিএফ এবং বিশেষ করে নিতাই বসাকের মানবিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরল ছোট্ট অর্ণব। মায়ের কোলে সন্তান ফিরে আসায় শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফিরল নাদনঘাটের গোয়ালপাড়া এলাকায়।












Leave a Reply