
রাজীব দত্ত, কলকাতা :-৩০ আগস্ট ২০২৬-এ বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকা এবং বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের যৌথ উদ্যোগে সাহিত্য সম্মেলন, গ্রন্থ প্রকাশ, গুণীজন সংবর্ধনা ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ।এদিন বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকা এক মিলন মেলার আয়োজন করে যা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই দিন সকাল সাড়ে দশটায় শ্রীমৎ স্বামী রামভদ্রানন্দজী মহারাজের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল “পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতি” নামক একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন।যে মূল্যবান গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক, লেখক ও সম্পাদক ড. মহীতোষ গায়েন (ভাইস প্রিন্সিপাল সিটি কলেজ), ড. অর্ণব দত্ত (বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক) এবং রাজদূত সামন্ত (প্রধান শিক্ষক বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় )। তার সাথে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠলো ড. সহদেব দোলুই(সম্পাদক – বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকা) রচিত “মুখোশের অন্তরালে” গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন। গ্রন্থ দু:টির প্রকাশনায় – বর্ণাক্ষর সাহিত্য প্রকাশন। এদিনের অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন জেলার ৬৩ জন গবেষকদের প্রবন্ধ নিয়ে সংকলনটি এক অন্য মাত্রা এনে দেয় অনুষ্ঠানের। বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার দুই সম্পাদক ড. অর্ণব দত্ত ড. সহদেব দোলুই , সভাপতি- দেবনারায়ণ দাস ও কার্যনির্বাহী সভাপতি- ড. মহীতোষ গায়েনের সু – পরিচালনায় ছিল সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা ,প্রসার ও সমাজ গড়ার তীব্র অঙ্গীকার। এছাড়া সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজদূত সামন্ত , সুজাতা সাহা, কোষাধ্যক্ষ আহেদা খাতুন, যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল এই শোভন সুন্দর অনুষ্ঠান , এছাড়া কেয়া চক্রবর্তী,
সান্তনা তরফদার প্রমূখদের প্রয়াস চোখে পড়ার মতন।গবেষক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, সাহিত্য সংগঠক, সমাজসেবী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, অধ্যক্ষদের উপস্থিতি এমনকি সংগীত শিল্পীদের আগমন এদিনে বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছিল অনুষ্ঠানের। যা এই অনুষ্ঠানটি বর্ণাঢ্য করে তোলে। বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকা শুধু সাহিত্য নিয়েই পড়ে থাকে না। সারাটা বছর তাদের অক্লান্ত এবং নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজসেবার মত কাজও করে থাকে। বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্যকলা আকাদেমীর অধিভুক্ত সাহিত্য পত্রিকা সংস্থা
এটি, যারা বাংলা ভাষার প্রসার, বাংলা ভাষা নিয়ে সেমিনার বিগত দিনে বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে কাজ করেছে এই সাহিত্য পত্রিকা।অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছেন সুদূর শিলিগুড়ি থেকে আগত সুজন দে মহাশয়, সংগীত পরিবেশন করেছেন সান্তনা তরফদার , সংগীত পরিবেশন করেন উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ি থেকে আগত অনিমেষ সরকার
। সবথেকে আকর্ষণীয় ছিল শ্রীনিধি সামন্তের কন্ঠে মোহিত হয়ে যাওয়ার মতো গান পরিবেশন। তাকে সাহায্য করেছেন জি বাংলা খ্যাত শ্রীখোল বাদক ঋতব্রত মহল। বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার এই বার্ষিক সাহিত্য সম্মেলন অতি মহাসমারোহে উদযাপন হয়ে গেল সকাল সাড়ে দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত, প্রায় সাত ঘন্টার এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত করে তুলেছিল অসংখ্য আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি: শ্রীমৎ স্বামী রামভদ্রানন্দজী মহারাজ (রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট; স্বামী বিবেকানন্দের পৈত্রিক আবাস), বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী
শ্রী সুকুমার ভট্টাচার্য (উপ সচিব: উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের, পশ্চিমবঙ্গ সরকার), নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী (বিশিষ্ট ভারত বিশারদ, সঙ্কৃত পণ্ডিত, প্রাক্তন অধ্যক্ষ),ড.অর্ঘ্য সরকার (প্রিন্সিপাল: বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজ), দীপ্তি মুখার্জী (বিশিষ্টকবি-সাহিত্যিক ও সমাজসেবী), কুন্তল অধিকারী(বিশিষ্ট শিক্ষক ও গবেষক), সুরাজ মন্ডল (অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, উলুবেড়িয়া, হাওড়া), পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. তন্ময় রুদ্র (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য -ইন্টারন্যাশনাল বেনোভোলেন্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন (IBRF ), মানব মুখার্জী( জেনারেশন আচিভার্স চেয়ারম্যান,বিশিষ্ট কবি- সাহিত্যিক ও সমাজসেবী, ইন্দ্রনীল নাগ চৌধুরী(বিশিষ্ট সমাজসেবী), পিনাকী শঙ্কর পান্ডে(বিশিষ্ট শিক্ষক ,ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সাহিত্যিক), বিজন রায় (বিশিষ্ট নাট্যকার কবি সাহিত্যিক ও সমাজসেবী),দীলিপ কুমার প্রামাণিক,সান্তনা রায় সাহা প্রমূখ ও বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার পরিবারের সকল কবি সাহিত্যিক গুণীজন।বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার সভাপতি দেবনারায়ণ দাস , কার্যনির্বাহী সভাপতি ড. মহীতোষ গায়েন, যুগ্ম সম্পাদক ড. অর্ণব দত্ত এবং ড. সহদেব দোলুই, কোষাধ্যক্ষ আহেদা খাতুন এবং বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর অর্ঘ্য সরকার ছিলেন সামগ্রিক অনুষ্ঠানটির মূল ব্যবস্থাপনায় । বর্ণময় এই অনুষ্ঠানে “বঙ্গভূমি শিক্ষারত্ন” সম্মান পান রাজদূত সামন্ত এবং বিশিষ্ট গবেষক মনামী ভদ্র পান “তরুণ শিক্ষাবিদ অ্যাওয়ার্ড -২০২৬”, “কাব্যতীর্থ” উপাধি পান সজল সাঁতরা ,”কবি সম্রাট” উপাধিতে ভূষিত হন আসামের করিমগঞ্জের কবি, সাহিত্যিক ডক্টর নীহাররঞ্জন দেবনাথ। এছাড়া বঙ্গভূমি গৌরব সম্মান পান ১৫ জন বিশিষ্ট লেখক, “সেরা সম্পাদক সম্মান -২০২৬” অ্যাওয়ার্ড পান ইতিহাস গবেষক ও সম্পাদক অধ্যাপক মহীতোষ গায়েন।
এদিন বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার মূল সামাজিক বার্তা ছিল : সাহিত্য চর্চা ও সৃজনের সাথে সাথে সমাজকল্যাণমূলক অরাজনৈতিক ও অলাভজনক কাজে নিরলস ব্রতী হওয়া এবং বর্তমান সরকারের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রয়াসকে গোটা বাংলায় প্রসারিত করা ও বিকশিত করা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুণীজনদের উপস্থিতি এদিনের বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিদ্যাসাগর অডিটোরিয়াম – কে করে তুলেছিল বর্ণময়।
নানান বাধাবিঘ্ন ও শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের তিন চার জন মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি প্রদান করেও
হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ও সামাজিক প্রকল্প অংশগ্রহণ বিষয়ক কারণে অনুপস্থিত থাকার মত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যুগ্ম সম্পাদক অর্ণব দত্ত ও সহদেব দলুই এবং কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক মহীতোষ গায়েনের সামগ্রিক সঞ্চালনা ও সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি অনুষ্ঠানের মাত্রাকে যে উৎকর্ষমন্ডিত করে তোলে যা এককথায় অনবদ্য। অনুষ্ঠানের অন্তিম পর্যায়ে লেখিকা ও সমাজকর্মী সেরিনা সৈয়দের ইংরেজি কবিতার বই এর মোড়ক উন্মোচিত হয়।
এদিন অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজে বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়, উক্ত বৈঠকে বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী সুকুমার ভট্টাচার্যের নাম বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার মুখ্য উপদেষ্টা ও বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ অর্ঘ্য সরকার এর নাম স্থায়ী যুগ্ম উপদেষ্টা হিসাবে প্রস্তাবিত হয় এবং সহ-সভাপতি হিসাবে শ্রী রাজদূত সামন্তের নাম এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে কেয়া চক্রবর্তী, সুজাতা সাহা, সান্তনা তরফদার, শ্রীমন্ত মন্ডল , সজল সাঁতরা, রাজেশ মন্ডল, সৈয়দ সেরিনা, নমিতা টুডু হাঁসদার নাম প্রস্তাবিত হয়। সভায় তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। উক্ত সভা থেকে অধ্যাপক মহীতোষ গায়েন, তন্ময় রুদ্র ও অর্ণব দত্তের সম্পাদনায় আগত কলকাতা বইমেলায় “অরাজনৈতিক শ্যামাপ্রসাদ” শিরোনামে বিরল গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,যা পশ্চিমবঙ্গের গবেষণা জগতের ইতিহাসে এক অসামান্য ও অনন্যসাধারণ প্রয়াস হতে চলেছে যা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা গবেষণার ইতিহাসে বিরল নজির সৃষ্টি করবে বলে আমজনতা মনে করছে।












Leave a Reply