
কোনও মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে সমাজ সাধারণত তার অসুস্থতার দিকে তাকায়। কিন্তু সেই মানুষটির নিজের ইচ্ছা, স্বাধীনতা, অধিকার, সামাজিক পরিচয় এবং মর্যাদার দিকে কতটা নজর দেওয়া হয়?
এই প্রশ্নকে সামনে রেখে ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকারচর্চায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন ভর্গবী ভি. দাভার।
তিনি গবেষক, লেখক, সমাজকর্মী এবং মানসিক স্বাস্থ্য-অধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—মানসিক স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে না দেখে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, লিঙ্গ এবং মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা।
১৯৯৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Bapu Trust for Research on Mind & Discourse। সংগঠনটি মানসিক স্বাস্থ্য, মনোসামাজিক প্রতিবন্ধকতা, মানবাধিকার এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সহায়তা নিয়ে কাজ করে।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে প্রশ্নের জন্ম
ভর্গবী দাভারের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজের পেছনে তাঁর নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতারও গভীর প্রভাব ছিল।
শৈশবে তিনি তাঁর মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারণে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক কলঙ্কের অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্রশ্ন করতে শেখায়—মানসিক সমস্যায় থাকা একজন মানুষের সঙ্গে সমাজ ও প্রতিষ্ঠান কীভাবে আচরণ করে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথে না গিয়ে দর্শন ও মনোবিজ্ঞানের সামাজিক দিকের দিকে এগিয়ে যান।
তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এখানেই—ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত বেদনা হিসেবে দেখেননি; সেটিকে বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নে রূপ দিয়েছেন।
বিজ্ঞান থেকে দর্শনের দিকে
ভর্গবী প্রথমে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন।
তিনি University of Madras থেকে Zoology, Botany এবং Human Physiology নিয়ে স্নাতক শিক্ষা লাভ করেন। পরে দর্শন নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
এরপর তিনি Indian Institute of Technology, Bombay থেকে Philosophy of Psychology বিষয়ে PhD করেন।
এই শিক্ষাগত পথটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।
জীববিজ্ঞান থেকে দর্শন, তারপর মনোবিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্য—বিভিন্ন শাখাকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ তাঁকে একটি আন্তঃবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে।
মানসিক স্বাস্থ্যকে নতুনভাবে দেখা
ভর্গবী দাভারের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নারীর মানসিক স্বাস্থ্য।
তাঁর বই Mental Health of Indian Women: A Feminist Agenda-তে তিনি ভারতীয় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নকে লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান, সহিংসতা, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে।
একজন নারীর জীবনে যদি দীর্ঘদিন সামাজিক চাপ, পারিবারিক সহিংসতা, বৈষম্য বা অর্থনৈতিক নির্ভরতা থাকে, তাহলে তার মানসিক অবস্থাকে শুধু ব্যক্তিগত ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা কতটা যথেষ্ট?
ভর্গবীর গবেষণা এই ধরনের প্রশ্নকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
নারীর অভিজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় অনেক সময় রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা এবং ওষুধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু একজন মানুষের সামাজিক পরিবেশও তার মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
নারী কী ধরনের পরিবারে থাকেন?
তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কতটা?
তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন কি না?
সহিংসতার শিকার হচ্ছেন কি না?
সমাজ তাঁর অভিজ্ঞতাকে কীভাবে দেখছে?
এই প্রশ্নগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভর্গবীর গবেষণা ও লেখালেখিতে নারীর এই সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর গবেষণায় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মূলধারার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিষয় উঠে এসেছে।
Bapu Trust-এর প্রতিষ্ঠা
১৯৯৯ সালে ভর্গবী দাভার Bapu Trust for Research on Mind & Discourse প্রতিষ্ঠা করেন।
সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও অধিকারভিত্তিক ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক দৃষ্টিতে দেখা।
পরবর্তীকালে Bapu Trust গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পরিষেবা এবং অধিকারভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়।
ভর্গবীর কাজের একটি কেন্দ্রীয় ধারণা ছিল—মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষকে কেবল ‘রোগী’ হিসেবে দেখলে তাঁর সম্পূর্ণ মানবিক পরিচয়টি আড়ালে চলে যেতে পারে।
তাঁর কাজ সেই মানুষদের সামাজিক পরিচয় ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিতে চেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান নয়, সম্প্রদায়ের গুরুত্ব
মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ক্ষেত্রে ভর্গবী সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এর অর্থ হল, কোনও মানুষকে তাঁর পরিচিত সামাজিক পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে পরিবার, বন্ধু, সহায়ক গোষ্ঠী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত রেখে সাহায্যের ব্যবস্থা তৈরি করা।
এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির নিজের মতামত ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
Bapu Trust-এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে থাকা মানুষদের জন্য peer support, community support এবং অধিকারভিত্তিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে মাঠের কাজ
ভর্গবীর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল গবেষণা ও বাস্তব কাজের মধ্যে সংযোগ।
তিনি শুধু বই বা গবেষণাপত্র লেখেননি।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীতি, আইন, সামাজিক অধিকার এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করেছেন।
তাঁর গবেষণার বিষয়গুলির মধ্যে ছিল নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মনোসামাজিক প্রতিবন্ধকতার অধিকার।
তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও gender, disability এবং human rights নিয়ে পড়িয়েছেন।
আইন ও অধিকার
মানসিক স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসার বিষয় হিসেবে না দেখে অধিকার ও আইনের সঙ্গে যুক্ত করাও তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ—এসব প্রশ্ন তাঁর কর্মক্ষেত্রের অংশ হয়ে ওঠে।
তিনি National Alliance on Access to Justice for Persons living with a Mental Illness-এর গঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের আলোচনায় অংশ নেন।
এভাবে মানসিক স্বাস্থ্যকে চিকিৎসার ঘেরাটোপ থেকে বের করে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মানসিক ও শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার দীর্ঘদিনের।
ভর্গবী দাভার এই ক্ষেত্রটিকেও গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
তিনি মহারাষ্ট্রে traditional healers বা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক নথি তৈরির প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
এই কাজের মাধ্যমে তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাইরে থাকা বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পদ্ধতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কী ধরনের ধারণা বহন করে।
একজন লেখক হিসেবেও
ভর্গবী দাভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বই ও গবেষণাপত্র লিখেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে—
Mental Health of Indian Women
Mental Health from a Gender Perspective
Psychoanalysis as a Human Science
এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য, নারী, প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক অধিকার এবং বিকল্প সহায়তা নিয়ে তিনি বহু গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন।
তাঁর লেখার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল—মানসিক স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র চিকিৎসা-পরিভাষায় ব্যাখ্যা না করে সামাজিক ও মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা।
গবেষণায় নারীর কণ্ঠ
২০০৮ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্রে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও disability নিয়ে women’s movement-এর সঙ্গে psychiatry-র সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।
সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যকে gender-sensitive করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোনও একটি সমস্যাকে বোঝার ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট নাও হতে পারে।
যে মানুষ সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর নিজের বক্তব্যও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
ভর্গবী দাভারের কাজ ভারতের বাইরেও পরিচিতি পায়।
২০০৫ সালে তিনি Ashoka Fellowship লাভ করেন। Ashoka তাঁর কাজকে মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মানুষের মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করে বর্ণনা করেছে।
তিনি পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও প্রতিবন্ধী অধিকার বিষয়ক আলোচনাতেও যুক্ত থেকেছেন।
World Justice Project-এর একটি প্রোফাইলে তাঁর কাজকে psychosocial disabilities-সহ মানুষের অধিকার, community support এবং access to justice-এর সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরা হয়েছে।
কেন তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ?
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।
অনেকে মনে করেন, মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষ মানেই দুর্বল।
কেউ কেউ তাঁদের সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান।
আবার অনেক পরিবার সমস্যাটিকে লুকিয়ে রাখে সামাজিক লজ্জার ভয়ে।
এই পরিস্থিতিতে ভর্গবীর কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—
একজন মানুষের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটলেও তাঁর মানবিক মর্যাদা, অধিকার এবং নিজের জীবনের ওপর মতামত দেওয়ার অধিকার কি হারিয়ে যায়?
তাঁর কাজের মূল দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—মানুষকে তাঁর সমস্যার পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না করা।
একটি বৃহত্তর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
ভর্গবী দাভারের কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্য শুধু হাসপাতালের বিষয় নয়।
মানুষ কোথায় থাকে, কীভাবে জীবনযাপন করে, তার পরিবার কেমন, সমাজ তাকে কীভাবে দেখে, সে অর্থনৈতিকভাবে কতটা নিরাপদ—এসবের সঙ্গেও মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে।
এই কারণে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গেলে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশের দিকেও তাকাতে হয়।
এটি একটি বৃহত্তর এবং বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।
তাঁর উত্তরাধিকার
ভর্গবী দাভারের কাজের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সম্ভবত কোনও একটি প্রতিষ্ঠান বা বই নয়।
বরং একটি প্রশ্ন করার পদ্ধতি।
তিনি প্রশ্ন করেছেন—
মানসিক স্বাস্থ্য বলতে আমরা কী বুঝি?
কে সিদ্ধান্ত নেবে?
মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষের নিজের কণ্ঠ কোথায়?
নারীর অভিজ্ঞতা কি আলাদা করে শোনা দরকার?
সমাজের ভূমিকা কতটা?
চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক সহায়তার গুরুত্ব কতটা?
এই প্রশ্নগুলি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনাকেও প্রভাবিত করেছে।
উপসংহার
ভর্গবী দাভারের জীবন ও কাজের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের মর্যাদা।
তিনি মানসিক স্বাস্থ্যকে এমন একটি বিষয় হিসেবে দেখেছেন, যেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি সমাজ, অধিকার, লিঙ্গ, পরিবার, আইন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষক হিসেবে তিনি বই ও গবেষণাপত্র লিখেছেন।
শিক্ষক হিসেবে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করেছেন।
অধিকারকর্মী হিসেবে আইন ও নীতির আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আর Bapu Trust-এর মাধ্যমে সম্প্রদায়ভিত্তিক সহায়তা ও অধিকারকেন্দ্রিক কাজকে এগিয়ে নিয়েছেন।
তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—কোনও মানুষকে তাঁর সমস্যার মধ্যে আটকে রেখে দেখা উচিত নয়।
প্রতিটি মানুষের রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, অভিজ্ঞতা, ইচ্ছা এবং মর্যাদা।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হলে শুধু চিকিৎসাব্যবস্থা নয়, আমাদের ভাষা, আচরণ এবং মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।
সেই পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া ভর্গবী দাভারের নাম তাই ভারতের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য-অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।












Leave a Reply