গিরা সারাভাই : ভারতীয় ডিজাইন শিক্ষার ভিত গড়ে দেওয়া এক দূরদর্শী নারী।

একটি দেশের উন্নয়ন শুধু কারখানা, রাস্তা, সেতু কিংবা বড় বড় ভবন তৈরি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রী কীভাবে তৈরি হবে, পোশাক ও বস্ত্রের নকশা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলাবে, ঐতিহ্যকে কীভাবে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করা হবে—এসবও একটি দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্বাধীনতার পর ভারত যখন নতুন করে নিজের পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করছে, তখন কিছু মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন যে দেশের শিল্প ও কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে আধুনিক ডিজাইন শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা দরকার।

এই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গিরা সারাভাই।

তিনি শুধু একজন ডিজাইনার বা শিল্পসংগ্রাহক ছিলেন না। আধুনিক ভারতের ডিজাইন শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান National Institute of Design (NID)-এর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বস্ত্রঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

NID-এর নিজস্ব ইতিহাসে গিরা সারাভাই এবং তাঁর ভাই গৌতম সারাভাইকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা ও প্রথম দিকের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে।

শিল্প ও সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে ওঠা

গিরা সারাভাই জন্মেছিলেন ১৯২৩ সালে আহমেদাবাদের সারাভাই পরিবারে।

সারাভাই পরিবার তখন শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই নয়, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিচিত ছিল।

এই পরিবেশ গিরা সারাভাইয়ের চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

শিল্পকে তিনি কখনও শুধুমাত্র সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখেননি। মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবহারিক প্রয়োজন, কারুশিল্প এবং প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্পের সম্পর্ক নিয়েও তাঁর আগ্রহ ছিল।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরবর্তীকালে তাঁর কাজের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ডিজাইনকে নতুনভাবে দেখা

স্বাধীনতার পর ভারতের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল—দেশের ঐতিহ্যকে কীভাবে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করা যায়?

ভারতের হাতে ছিল হাজার বছরের বস্ত্র, কারুশিল্প, ধাতুশিল্প, কাঠের কাজ, মৃৎশিল্প এবং নকশার ঐতিহ্য।

অন্যদিকে শিল্পায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে আসছিল।

গিরা সারাভাইয়ের মতো ডিজাইনাররা মনে করেছিলেন, এই দুই জগতকে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই।

বরং ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মধ্যে একটি সেতু তৈরি করা যেতে পারে।

পরবর্তীকালে NID-এর শিক্ষাদর্শেও এই ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

NID-এর ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৫৮ সালের Charles ও Ray Eames-এর India Report ডিজাইনকে বাস্তব সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছিল এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে ডিজাইনারকে একটি সেতু হিসেবে দেখেছিল।

National Institute of Design-এর স্বপ্ন

১৯৫০-এর দশকে ভারতে আধুনিক ডিজাইন শিক্ষার জন্য একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান তৈরির আলোচনা শুরু হয়।

সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পী, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই উদ্যোগে যুক্ত হন।

Charles ও Ray Eames ভারত সফর করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পী, কারিগর, বিজ্ঞানী, স্থপতি, শিল্পোদ্যোগী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কথা বলেন।

১৯৫৮ সালের ৭ এপ্রিল তাঁরা ভারত সরকারের কাছে India Report জমা দেন।

এই রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে ভারতের ডিজাইন শিক্ষার নতুন দিকনির্দেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আহমেদাবাদে প্রতিষ্ঠিত হয় National Institute of Industrial Design, যা পরবর্তীকালে National Institute of Design বা NID নামে পরিচিত হয়।

এই প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সারাভাই পরিবারের সহায়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

NID-এর সরকারি ইতিহাসে গিরা ও গৌতম সারাভাইয়ের ভূমিকার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

শুধু প্রতিষ্ঠান তৈরি নয়, নতুন শিক্ষাদর্শ

একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা এক বিষয়, আর তার শিক্ষাদর্শকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা অন্য বিষয়।

NID-এর প্রথম দিকের শিক্ষায় প্রচলিত শুধুমাত্র বইনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে হাতে-কলমে কাজ শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Bauhaus-এর ‘learning by doing’ বা কাজ করতে করতে শেখার ধারণার প্রভাবও ছিল।

এর ফলে একজন ছাত্র শুধু নকশা আঁকত না।

তাকে উপকরণ নিয়ে কাজ করতে হতো।

কারিগরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো।

কোনও পণ্য কীভাবে তৈরি হয় তা বুঝতে হতো।

বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে হতো।

এই পদ্ধতি ভারতীয় ডিজাইন শিক্ষায় একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করে।

আজ NID শিল্প, শিল্পোদ্যোগ, যোগাযোগ, টেক্সটাইল এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

ভারতীয় বস্ত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ

গিরা সারাভাইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ভারতীয় বস্ত্রঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁত, নকশা, বুননপদ্ধতি এবং ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের বৈচিত্র্য অসাধারণ।

কিন্তু আধুনিকতার দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেক পুরনো কারুশিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

গিরা সারাভাই বুঝেছিলেন, এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা দরকার শুধু অতীতকে স্মরণ করার জন্য নয়, ভবিষ্যতের ডিজাইনের জন্যও।

এই ভাবনা থেকেই তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইলস

গিরা সারাভাই Calico Museum of Textiles প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

NID-এর স্মরণলেখায় তাঁকে NID Ahmedabad এবং Calico Museum of Textiles—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যালিকো মিউজিয়ামের মাধ্যমে ভারতীয় বস্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাস, নকশা, কারুশিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তৈরি হয়।

এটি কেবল একটি জাদুঘর ছিল না।

ভারতীয় বস্ত্রকে গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একটি শাড়ির নকশা বা একটি পুরনো কাপড়ের বুনন যে একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সমাজ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—এই দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংযোগ

গিরা সারাভাইয়ের কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তাঁর সমন্বয়ের চিন্তা।

একদিকে তিনি ভারতের প্রাচীন বস্ত্র ও কারুশিল্প সংরক্ষণ করতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে তিনি আধুনিক ডিজাইন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও বুঝেছিলেন।

অর্থাৎ তাঁর কাছে ঐতিহ্য মানে অতীতে আটকে থাকা নয়।

বরং পুরনো জ্ঞানকে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করা।

এই চিন্তা আজকের ‘design innovation’ বা নকশাভিত্তিক উদ্ভাবনের ধারণার সঙ্গেও অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কারিগরের জ্ঞানকে গুরুত্ব

ভারতের বহু কারুশিল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কারিগরদের হাতে তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই জ্ঞানের বড় অংশ কখনও বইয়ে লেখা হয়নি।

কারিগর জানতেন কোন সুতো ব্যবহার করতে হবে, কোন রং কীভাবে তৈরি করতে হবে, কীভাবে তাঁতে একটি নির্দিষ্ট নকশা ফুটিয়ে তুলতে হবে।

এই বাস্তব জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া আধুনিক ডিজাইন শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

NID-এর শিক্ষাদর্শে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে শেখার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে।

ডিজাইনারের নতুন পরিচয়

গিরা সারাভাই যে সময়ে কাজ করছিলেন, তখন ‘ডিজাইনার’ শব্দটির বর্তমান অর্থ ভারতীয় সমাজে এতটা প্রতিষ্ঠিত ছিল না।

আজ আমরা product design, textile design, communication design, industrial design, interaction design—এমন অসংখ্য শাখার কথা বলি।

কিন্তু এই পেশাগত ক্ষেত্রগুলি গড়ে ওঠার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ডিজাইন শিক্ষার বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

NID সেই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।

আর তার প্রাথমিক নির্মাণপর্বে গিরা সারাভাইয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক চিন্তার সঙ্গে ভারতীয় বাস্তবতা

গিরা সারাভাইয়ের কাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল আন্তর্জাতিক ধারণাকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে ভারতীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।

পশ্চিমে আধুনিক ডিজাইনের যে ধারাগুলি তৈরি হচ্ছিল, সেগুলির সঙ্গে ভারতীয় কারুশিল্প ও ঐতিহ্যের সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়।

ভারতের নিজস্ব উপকরণ, জলবায়ু, সংস্কৃতি, সামাজিক কাঠামো এবং ব্যবহারিক প্রয়োজন রয়েছে।

তাই ভারতীয় ডিজাইনের নিজস্ব ভাষা তৈরি করা দরকার ছিল।

NID-এর প্রতিষ্ঠার পেছনে এই ধরনের চিন্তারই প্রভাব ছিল—বিশ্বের আধুনিক ডিজাইনচিন্তার সঙ্গে ভারতের নিজস্ব ঐতিহ্যকে যুক্ত করা।

একটি নতুন ভারতের নকশা

স্বাধীনতার পর ভারত শুধু রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন দেশ হয়ে ওঠেনি।

দেশটিকে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হয়েছে।

নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয়েছে।

এই বৃহত্তর জাতীয় নির্মাণের প্রক্রিয়ায় ডিজাইনও একটি ভূমিকা পেয়েছিল।

কোনও কারখানার পণ্য কীভাবে মানুষের জন্য সহজ ব্যবহারযোগ্য হবে?

কোনও তথ্য কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছবে?

কোনও কাপড়ের নকশা কীভাবে ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক বাজারে পৌঁছবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ডিজাইন শিক্ষার প্রয়োজন ছিল।

NID সেই প্রয়োজনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক উত্তর হয়ে ওঠে।

গিরা সারাভাইয়ের উত্তরাধিকার

গিরা সারাভাই ২০২১ সালে মারা যান।

তাঁর জীবনের কাজের দিকে তাকালে দুটি বড় প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে সামনে আসে—NID এবং Calico Museum of Textiles।

একটি আধুনিক ডিজাইন শিক্ষার ভিত গড়ে তুলেছে।

অন্যটি ভারতীয় বস্ত্রঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুটি প্রতিষ্ঠানের চরিত্র আলাদা হলেও তাদের মধ্যে একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে—জ্ঞানকে সংরক্ষণ করা এবং সেই জ্ঞানকে ভবিষ্যতের কাজে ব্যবহার করা।

NID আজ বহু ক্যাম্পাস নিয়ে বিস্তৃত এবং ভারতের ডিজাইন শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা

আজ ডিজাইন আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।

মোবাইল ফোনের ইন্টারফেস থেকে শুরু করে গাড়ি, আসবাব, পোশাক, বইয়ের প্রচ্ছদ, ওয়েবসাইট, বিজ্ঞাপন—সব ক্ষেত্রেই ডিজাইন রয়েছে।

কিন্তু ভালো ডিজাইন শুধু দেখতে সুন্দর হওয়া নয়।

এটি মানুষের প্রয়োজন বুঝতে শেখায়।

সমস্যা চিহ্নিত করতে শেখায়।

উপকরণকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখায়।

আর কখনও কখনও একটি সংস্কৃতির পরিচয়ও বহন করে।

গিরা সারাভাইয়ের কাজ এই বিস্তৃত অর্থে ডিজাইনকে দেখার পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

উপসংহার

গিরা সারাভাইয়ের জীবন কোনও একক পুরস্কার বা একটি বিখ্যাত আবিষ্কারের গল্প নয়।

তাঁর অবদান অনেক বেশি নীরব এবং দীর্ঘস্থায়ী।

তিনি এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের হাজার হাজার ডিজাইনারকে শিক্ষা দিয়েছে।

তিনি এমন বস্ত্রঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বুঝেছিলেন, আধুনিকতা মানে অতীতকে মুছে ফেলা নয়।

বরং অতীতের সেরা জ্ঞানকে নতুন সময়ের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যৎ তৈরি করা।

আজ ভারতের ডিজাইন শিক্ষার কথা উঠলে National Institute of Design-এর নাম অবধারিতভাবে আসে। সেই প্রতিষ্ঠানের জন্ম ও প্রাথমিক বিকাশে গিরা সারাভাইয়ের ভূমিকার কথা তাই স্মরণ করতেই হয়।

তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ধারণাটি উঠে আসে তা হল—

ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ করলেই হয় না; তাকে বুঝতে হয়, নতুনভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হয়।

এই ভাবনার কারণেই গিরা সারাভাই ভারতীয় শিল্প, বস্ত্র ও ডিজাইন শিক্ষার ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র নাম হয়ে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *