কালীমন্দির ও মাদ্রাসার মাঝে প্রথম দুর্গাপুজো, মালদার বাংরুয়া নয়াটোলায় সম্প্রীতির নজির।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- একদিকে কালীমন্দির, অন্যদিকে মাদ্রাসা। মাঝখানে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর আয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই সম্প্রীতির আবহেই এবার প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন ঘিরে উৎসবের মেজাজ হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়া নয়াটোলায়। মহালয়ার শুভলগ্নে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল পুজোর প্রস্তুতি। শনিবার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংরুয়া নয়াটোলা সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির উদ্যোগে এই খুঁটিপুজো হয়। পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় আগে কখনও দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়নি। এবারই প্রথম স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের অনুমান, পুজোয় খরচ হবে প্রায় দু’লক্ষ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংরুয়া নয়াটোলায় দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করছেন। এলাকার একদিকে রয়েছে কালীমন্দির, অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাদ্রাসা। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এবার সেই এলাকার মন্দির প্রাঙ্গণে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন যেন সম্প্রীতির ছবিতে যোগ করল নতুন মাত্রা। পুজোকে কেন্দ্র করে শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, সামাজিক সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজোমণ্ডপে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান তাঁরা।
এলাকায় প্রথম দুর্গাপুজোকে ঘিরে শিশু থেকে প্রবীণ, সকলের মধ্যেই উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। একদিকে কালীমন্দির, অন্যদিকে মাদ্রাসা—মাঝখানে দুর্গাপুজোর আয়োজন। বাংরুয়া নয়াটোলার এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধনই সমাজকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। নতুন এই পুজো তাই কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার এক আন্তরিক প্রয়াস। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই বার্তাই যেন ছড়িয়ে পড়ছে বাংরুয়া নয়াটোলার আকাশে-বাতাসে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *