সরস্বতী পুজোর আগে অকাল বর্ষণের জেরে ক্ষতির মুখে পড়লেন প্রতিমা বিক্রেতা থেকে সাধারণ মানুষ ও চাষিরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ- সরস্বতী পুজোর আগে অকাল বর্ষণের জেরে ক্ষতির মুখে পড়লেন প্রতিমা বিক্রেতা থেকে সাধারণ মানুষ ও চাষিরা। রাতভর একটানা বৃষ্টির জেরে মালদা শহরের সহ বিভিন্ন এলাকায় জমলো জল । তার সাথে কনকনে ঠান্ডা আর বৃষ্টির ফলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সরস্বতী প্রতিমা বিক্রেতারা। পলিথিনের গেড়োয় ঢাকা থাকা সরস্বতী প্রতিমার অধিকাংশই বৃষ্টির জলে গলে গিয়েছে জানিয়েছেন বিক্রেতাদের অনেকেই। যারফলে লোকসানের মুখে পড়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।অন্যদিকে মালদা জেলার গাজোল, হবিবপুর, বামনগোলা ব্লকে সরষে থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এক টানা বৃষ্টির জেরে মালদায় অবস্থা মৃৎশিল্পী থেকে সাধারণ কৃষকদের।এদিকে একটানা বৃষ্টির জেরে মালদা শহরের দুই নম্বর গভমেন্ট কলোনি,  পিরোজপুর,  মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকা, রামকৃষ্ণপল্লী, বিবেকানন্দ পল্লী সহ আরো বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে।সকাল থেকে জরুরী কাজ ছাড়া অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোন নি । রাস্তায় রীতিমতো গোড়ালি ডুবলেই ঠাণ্ডা কনকনে বৃষ্টির জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বৃষ্টির জল জমা নিয়েও মালদা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অসন্তোষ ছড়িয়েছে নাগরিকদের মধ্যে।
এদিকে মালদা শহরের ফোয়ারা মোড়, নেতাজি সুভাষ রোড , রাজমহল রোড সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে বহু শিল্পীরা সরস্বতী প্রতিমা বিক্রি করে থাকেন। প্রতিবছরের মতো এবছরও ওইসব এলাকার ফুটপাথে মজুত করা হয়েছিল অসংখ্য বিভিন্ন মাপের সরস্বতী প্রতিমা । বৃহস্পতিবার রাতে বেচাকেনার পর স্বাভাবিকভাবেই পলেথিন দিয়ে  প্রতিমা গুলিকে থেকে রেখেছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু মধ্যরাত থেকে একটানা বৃষ্টির জেরে অধিকাংশ প্রতিমায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে । যার ফলে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
প্রতিমা বিক্রেতা মনোজিৎ মন্ডল , সুভাষ মন্ডলদের বক্তব্য, ভাবতে পারিনি এতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে । পাইকারি দরে আশেপাশের জেলা থেকে প্রতিমাগুলি আমরা কিনে এনে শহরে বিক্রি করি। গত বুধবার থেকে ভালোই বিক্রি শুরু হয়েছিল। আজ শুক্রবার ছিল, এদিনই বেশি বিক্রি করার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে প্রতিমা অধিকাংশই নষ্ট গিয়েছে । হাজার হাজার টাকার লোকসান কিভাবে পূরণ করব কিছুই বুঝতে পারছিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *