সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত তালদিতে।

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং – সম্প্রীতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ক্যানিং থানার অন্তর্গত তালদির এক মহিলা সমিতি। যা জেলা তথা রাজ্যে বিরল।মঙ্গলবার সকালে তালদি ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০০ অধিক হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের হাতে উপবাস ভঙ্গের জন্য ফলমূল,ছোলা,চিনি সহ খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন মহিলা সমিতির মহিলারা।
উল্লেখ্য বর্তমানে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ‘রোজা’ পালন করছেন এবং হিন্দু ধর্মের মানুষের মধ্যে ‘শিব পুজো’ উপলক্ষে সন্ন্যাসী হয়েছে অসংখ্য মানুষ।বর্তমানে এক প্রকার প্রায় উৎসবের আমেজেই রয়েছেন হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন।এমনই উৎসব মূখর দিনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির মেল বন্ধন করে সেবা মূলক কাজে ব্রতী হলেন ক্যানিংয়ের ‘তালদি এসসি,এসটি,ওবিসি এন্ড মাইনোরিটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ র মহিলারা।রীতিমতো মহিলা সমিতির রুপালি মন্ডল,বর্ণালী নাইয়া,রুম্পা দে,সুভদ্রা বিশ্বাস,স্বপ্না মন্ডল,কল্পনা মন্ডল,মালতী নস্কর,মঞ্জু প্রসাদ,গুড়িয়া সেখ,প্রিয়াঙ্কা মন্ডলরা মিলিত ভাবে গাঁটের কড়ি খরচ করে ফলমূল,ছোলা,চিনি সহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কিনে হিন্দু-মুসলিম পরিবারের প্রায় ৪০০ মানুষের হাতে তুলেদিলেন।
কেন এমন উদ্যোগ সে প্রসঙ্গে মহিলা সমিতির সম্পাদিকা রুপালি মন্ডল জানিয়েছেন ‘বর্তমান সময়ে চারিদিকে যেন ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করে উষ্ণ বাতাবরণ তৈরী হয়েছে।সেই উষ্ণ বাতারণ কে ধ্বংস করে মানবতার লক্ষ্যে আমাদের এমন সম্প্রীতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও এমন সম্প্রীতির মিলন উৎসবে সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে বার্তা দিতে চাই মানুষ মানুষের পাশে। কোন ধর্ম যেন সেখানে প্রাধান্য না পায়।যাঁর ধর্ম তাঁর কাছে।’
অন্যদিকে সমিতির অপর এক মহিলা সদস্যা রুম্পা দে জানিয়েছেন ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে করে বিভেদ সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে আমরা একত্রিত হয়ে কাজ করে চলেছি।কারণ সরাব উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’।
রোজা কিংবা উপবাস ভঙ্গের জন্য এদিন সকালে ফলমূল,চিনি,ছোলা সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি আজমীরা,তানজীরা,আসমা বিবি সহ সুলতা,মৌমিতা ও অনুরুপা মন্ডলরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *