ঝাড়গ্রামে ১৩ দিনে হাতির হানায় বলি চার জন।

তৃণ্ময় বেরা, ঝাড়গ্রাম:-  ঝাড়গ্রামে ১৩ দিনে হাতির হানায় বলি চার জন । হাতির হানায় মৃত্যুর মিছিল চলছে ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্গত তিন বন বিভাগে । এদিন সোমবার সকালে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের জারুলিয়া গ্রামে প্রাতঃকর্ম করতে গিয়ে হাতির হানায় মৃত্যু হয় গণেশ সিং নামে এক ব্যক্তির । হাতির হানায় মৃত্যুর খবর চাউর হতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয় জারুলিয়া এলাকায় । বনদপ্তর এর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত গ্রামবাসীরা । হাতির সমস্যা সুরাহা না করা পর্যন্ত মৃতদেহ তুলতে দেয়া যাবে না এই দাবি করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা । যদিও পুলিশ ও বনদপ্তর যৌথভাবে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠায় । জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম সদর ব্লকের নেদাবহড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় বেশ কিছু ফলের বাগান থাকায় প্রায় সারা বছরই হাতির আনাগোনা রয়েছে ওই এলাকায়। বর্তমান সময়ে নেদাবহড়া, জারুলিয়া, বিরিহাড়ি, কলাবনি সহ বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাতি সারাবছরই রয়েছে । প্রতিনিয়ত ফসলের ক্ষতি করেই চলেছে হাতির দল । জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা তপন মাহাতো বলেন , প্রতিনিয়ত এলাকায় হাতি হয়েছে । প্রতিটি ধানের জমিতে হাতির পায়ের ছাপ রয়েছে । হাতির জন্য সারা রাত জেগে বহুকষ্টে ধান বাঁচিয়ে ধান গুলি ঘরে তোলা হচ্ছে । যিনি আজকে হাতির হানায় মারা গেলেন তার পরিবারের কি হবে। এই এলাকায় প্রতিনিয়ত হাতি কাউকে না কাউকে খুন করছে। এর দায়িত্ব কে নেবে বনদপ্তর । বনদপ্তরের লোকরা আসে আর ক্ষতিপূরণের কথা বলে চলে যায় । মানুষের ক্ষতিপূরণে দিলে কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় । এলাকা থেকে হাতি তাড়ানোর কোন উদ্যোগ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বনদপ্তর ।

গত মাসের ২৭ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের ছোটচাঁদাবিলা এলাকায় হাতির হানায় মৃত্যু হয় রেখা মাহাতো (৫২) নামে এক মহিলা । এই ঘটনার ঠিক আট দিনের মাথায় ৪ ই মে নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা রেঞ্জের গোখুরপুর গ্রামে হাতির হানায় মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র মাহাতো (৬৬ ) নামের এক ব্যক্তির । নয়াগ্রামের ঘটনার ঠিক তিন দিনের মাথায় ৭ ই মে শনিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের সাপধরা এলাকায় হাতির হানায় মৃত্যু হয় মিনি বাগাল ( ৫৫ ) নামে এক মহিলার । সাপধরার ঘটনার ঠিক দুই দিনের মাথায় ফের হাতির মৃত্যু হল গনেশ সিং এর ।

ঝাড়গ্রামে হাতির হানায় মৃত্যুর মিছিল চলা সত্ত্বেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের । এই বিষয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও শেখ ফরিদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *