আবদুল হাই, বাঁকুড়াঃ শিল্প বিহীন এলাকা হিসেবেই পরিচিত রুখা শুখা লাল মাটির জেলা বাঁকুড়ার জঙ্গল মহল। মূলতঃ কৃষি নির্ভর এই এলাকার একটা বড় অংশের মানুষের হাতে সারা বছর কাজ থাকেনা। অন্যদিকে ৭৫ মাইক্রনের উপর প্লাষ্টিকের ক্যারিব্যাগ তৈরী, মজুত করা, বিক্রি সর্বোপরি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হচ্ছে, ঠিক তখনই গাছের পাতা দিয়ে তৈরী ‘গ্রীণ ব্যাগ’ উপহার দিতে চলেছে সেই জঙ্গল মহলই। পাঁচ কেজি পর্যন্ত বহন ক্ষমতা যুক্ত এই ‘গ্রীণ ব্যাগ’ মিলবে মাত্র দু’টাকাতেই। এর ফলে এক দিকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই এলাকার দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার গুলির হাতে নগদ অর্থের যোগান, অন্যদিকে পরিবেশ বান্ধব এই ব্যাগ ব্যবহার করে দূষণের মাত্রাও অনেক খানি কমানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রানীবাঁধের আদিবাসী প্রধান মৌলা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, মহিলারা জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করার কাজ করছেন। পরে সেই শালপাতাকে ব্যবহার করেই তৈরী হচ্ছে এই বিশেষ ধরণের ব্যাগ।
বাড়িতে বসেই কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় খুশী ঐ গ্রামের মানুষও। পাতা দিয়ে ব্যাগ তৈরীর সঙ্গে যুক্ত বন্দনা সহিস বলেন, ঘরে বসেই কাজ পাচ্ছি। তবে এই কাজে প্রয়োজন সেলাই মেশিনের। সরকারীভাবে সেলাই মেশিন সরবরাহ করা হলে তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান।
আর কর্মযজ্ঞের পিছনে যাঁর অবদান পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দ মাইতি বলেন, একবার জঙ্গল মহলে বেড়াতে এসে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এখানকার মানুষের হাতে কাজ নেই এই বিষয়টা আমার নজরে আসে। তখন এখানকার সহজলভ্য গাছের শালপাতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু করার ভাবনা মাথায় আসে। তারপর তাঁর এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে সমস্ত উৎপাদিত ব্যাগ তিনি কিনে নেবেষ বলেও জানিয়েছেন।












Leave a Reply