কিছু সংলাপ : টিটো।

0
649

-একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?
-হ্যাঁ ,শিওর,করনা।
-না মানে যদি সত্যি উত্তর দাও তবেই করব।
-করেই দ্যাখোনা।যদি খুব পার্সোনাল হয় তাহলে উত্তর দেবনা।বাট মিথ্যে বলবো না।
তুমি কিসে সবচেয়ে বেশি ভয় পাও?
-এটাই তোমার প্রশ্ন?
-হ্যাঁ, না আরেকটাও আছে।আগে এটা বল।
-অন্ধকার ঘর
-আর তোমার সবচেয়ে প্রিয় কি?প্লিজ ওই বাবা,মা,ভাই,বোন,বয়ফ্রেন্ড, বন্ধু এইসব আবার বলে বসোনা।কোনো জিনিসের নাম বল।
-বিরিয়ানি।
-চিকেন না মটন?
অফকোর্স মটন,কেন বলতো?ট্রিট দেবে নাকি?
-আরে পুরোটা শোনো তো আগে,বলছি ধরো একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে যদি তোমায় একপ্লেট মটন বিরিয়ানি দেওয়া হয় খেতে পারবে?
-অন্ধকার ঘরে মানুষ খায় কি করে?তাও মটন বিরিয়ানির মত একটা খাবার।আর তাছাড়া বিরিয়ানির ওই হলুদ,লম্বা,সরু সরু বাসমতি চাল,জাম্বো সাইজের মটনের রাং, তার সঙ্গে সবুজ শসা,কমলা রঙের গাজর আর লাল টুকটুকে টম্যাটোর স্যালাড এই যদি চোখেই না দেখলাম তাহলে খাওয়ার মজা তো অর্ধেক মাটি।
-ওহহ্ তাও তো ঠিক।আচ্ছা ধর,যদি তোমায় কোনো এমন পাওয়ার দেওয়া হয় মানে সুপার ন্যাচারাল পাওয়ার,যাতে তুমি অন্ধকার ঘরেও সব পরিষ্কার দেখতে পাবে তাহলে?
-সবই যদি দেখতে পাবো তাহলে অন্ধকারটা রইলো কোথায়?
-হ্যাঁ ,তা অবশ্য ঠিক।
-এবার তুমি বল তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি?
-গল্প।
-গল্প!
-হ্যাঁ ,গল্প।গল্প পড়তে ,বলতে ও শুনতে আমি খুব ভালবাসি কিন্তু দেখতে একদম নয়।
-মানে?
-মানে ওই সিনেমা,নাটক,সিরিয়াল এসব আমার ঠিক পোষায় না।গল্প পড়তে পড়তে বা শুনতে শুনতে আমি সবকিছু ইম্যাজিন করব এতে সবচেয়ে বেশি মজা।
-বাহহ্!তুমি তো খুব ইম্যাজিনেটিভ ।তা তোমার কি ধরণের গল্প বেশি ভালো লাগে?
-হাসির হাসির মজার গল্পই আমার ফেভারিট।আমি হাসতে আর হাসাতে খুব ভালোবাসি।
-তা তুমি স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান হওয়ার চেষ্টা করনা কেন?
-না না ,ওসব আমি পারবো না।
-কেন?প্রবলেম কিসের?
-না না, একঘর লোক আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে আর আমি আর আমি স্টেজের ওপর দাঁড়িয়ে ,আমার ওপর আলো,এইসব ভাবতেই বহুত অস্বস্তি হয়।
-কেন?তুমি কি খুব লাজুক?
-হ্যাঁ, ওই কিছুটা বলতে পারো।
-ওওও ম্মাআআ!হাউ সুইট!
-এতে আবার সুইটের কি হলো?তোমাদের মেয়েদের না সব বিষয়ে আদিখ্যেতা ।আচ্ছা তুমিতো জানতে চাইলে না আমার কিসে সব থেকে ভয়।
-না আমি জানতে চাই না।কারোর দুর্বল জায়গা নিয়ে আমার কথা বলতে ভালো লাগেনা।
-যা বাবা ,ভালোবাসার জিনিস,প্রিয় জিনিস সেটাও তো একরকম দুর্বলতা।
-হ্যাঁ, বাট্ সেটা নিয়ে কথা বলতে সব্বাই পছন্দ করে।ওতে কোন ক্ষতি নেই।
-বুঝলাম।
-আমিও বুঝলাম।
-কি?
-বুঝলাম যে তুমি সবকিছুই খুব লেটে বোঝো।এই তোমার বন্ধুরা কেউ তোমায় টিউবলাইট বলে ডাকে না?
-ডাকতো।
-ওহহ্!এখন আর ডাকে না কেন?
-সেটা ওরাই জানে।এই তুমি সত্যি সত্যি শুনতে চাওনা আমি কিসে সবথেকে ভয় পাই?
-একদম না।তার থেকে তুমি আমাকে এক মজার গল্প বল।দেখি তো তুমি আমায় হাসাতে পারো কি না ।
-না বলবো না।কারণ তুমি হাসবে না।হাসি পেলেও দাঁতে দাঁত চেপে হাসি আটকে রাখবে।
-ওমা !এমন বোকা বোকা কাজ আমি কেন করবো?
-কারণ তুমি আমায় হারিয়ে দিতে চাইবে তাই।
-কি বোকা বোকা ,এর মধ্যে আবার হারা জেতা এলো কোথা থেকে?
-ওটাই তো,আমি একটা মজার গল্প বলবো অথচ তুমি হাসবে না,সেটাতো আমার হার ই হলো।আমার হার,আমার গল্পের হার,
তোমরা মেয়েরা এমনই করো।
-তোমর তো মেয়েদের প্রতি হেব্বি রাগ।কেন,কোনো ব্যাথা আছে নাকি?
-না রাগ ফাগ নয়,আমার খারাপ লাগে।
-কি হেরে যেতে?
-হম্ ,আর শুধু আমার কেন?হেরে যেতে সবারই খারাপ লাগে।
-আরে বাবা এভাবে দেখছো কেন? সবাই কি সবসময় জিতবে? হেরে যাওয়াটাও তো লাইফের একটা পার্ট।না হারলে তুমি জানবে কি করে কিভাবে জিততে হয়?
-এসব ঢপের কথা রাখতো।ছোট থেকে এসব শুনে শুনে কান পচে গেছে ।অন্য কোনো কথা থাকলে বল।
-আমার কথা তো তোমার পছন্দই হচ্ছে না।তার চেয়ে তুমি বল আমি শুনি।
-ওহহ্,ঠিক আছে আমি বরং তোমাকে একটা ভয়ের গল্প বলি ।শুনবে?
-হ্যাঁ শোনাতে পারো।তবে আমি কিন্তু গল্প শুনে খুব একটা ভয় ফয় পাই না।
-এটা শুনে পাবে ,গ্যারান্টি।
-বেশ তাহলে বাজি হয়ে যাক্।বল কি বাজি রাখবে?
-আবার বাজি ফাজি কেন? আমি ওসব বাজি ফাজি ধরি না।
-কেন?
-বলতে পারি কিন্তু তুমি শুনতে চাইবে না।
-এই তোমার কথা না মাঝে মাঝে একদম বুঝতে পারি না আমি ।সব কেমন মাথার ওপর দিয়ে যায়।
-আমি সবচেয়ে ভয় পাই ওই বাজি ধরতে।
ওহহ্!আই আ্যম রিয়েলি সরি।আমি এবার বুঝেছি।সবটাই বুঝতে পেরেছি।
-কি বুঝেছো?
-না থাক্।
-আরে বলইনা।আমিও শুনি তুমি কি বুঝেছো?
-এর আগে কোনো ইস্যুতে বাজি ধরে তুমি খুব বিচ্ছিরি ভাবে হেরে গিয়েছিলে তাই না?তাই তুমি হেরে যাওয়ার কথা শুনলেই …
-আমি আজ পর্যন্ত একটাই বাজি লড়ে ছিলাম আর সেটায় আমি জিতে ছিলাম।
-তাই নাকি?ইন্টেরেস্টিং।
-ইন্টেরেস্টিং!তাহলে এক কাজ কর।এই ইন্টেরেস্টিং গল্পটাই শোনো।একটা মেয়ে খুব মিষ্টি দেখতে আমাদের পাড়াতেই থাকতো।বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে মেয়েটাকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম,প্রেমপত্র।
-কেলো করেছে তুমি হঠাৎ ওই সেভেন্টিজের নায়কদের মত মেয়েটাকে চিঠি দিতে গেলে কেন?তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছিল?মেয়েটা নিশ্চয়ই ওই চিঠি দেখে পালিয়েছে তাই না?
-তুমি তো গল্পটা শুনতে চেয়েছিলে ,তাহলে আগে শুনে নাও তারপর যা যা কমেন্টস করার করো।
-আচ্ছা আচ্ছা বাবা বলো।তো হ্যাঁ, তারপর কি হলো?
-মেয়েটা হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিল।মাথা নিচু করে ওখান থেকে চলে গেল।আর আমিও বাজি জিতে গেলাম।
-টিপিক্যাল সেভেন্টিজ,এই সরি সরি সরি,প্লিজ ক্যারিঅন্।
-পরদিন সন্ধ্যাবেলা মেয়েটার বাবা আর কাকু এসে আমাদের বাড়িতে চড়াও হলো।চেঁচামেচি, তর্কাতর্কি যা তা কান্ড।আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজন বেড়িয়ে এসেছিল। নিজেদের কাজ সেরে ওরা তো কেটে পড়লো।তারপর বাবার পুরো রাগ গিয়ে পড়লো আমার ওপর।বেধড়ক মার মারল।জীবনে ওরকম মার আমি কখনো খাইনি।মাও বাবাকে আটকাতে এলো না।সারাক্ষন মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কেঁদেই গেল।আমিও কাঁদলাম,খুব কাঁদলাম।আমি না খুব একটা কাঁদতাম না জানো।ছোটবেলা থেকে নাকি আমার কান্নাকাটি খুব কম।বললাম না আমি হাসতে আর হাসাতে ভালোবাসতাম।সেদিনই ঠিক করে নিলাম যার জন্য আমাকে এত কাঁদতে হল,তাকেও আমি কাঁদাব,কাঁদাবই
-সরি একটু ইন্টারাপ্ট্ করছি,প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড।তারমানে তোমার সব রাগ গিয়ে পড়লো ওই মেয়েটির ওপর তাইতো?
-একশো বার।
-কিন্তু তুমি নিজের দিকে তো একবার তাকালে না?তুমি তো বন্ধুদের সঙ্গে বাজি রেখে মেয়েটাকে পটাতে গেছিলে, ভালো তো বাসোনি।
-বলাকাকে ভালো না বাসলে আমি ওইসব বাজি ফাজি ধরতামই না।
-এই এই এক সেকেন্ড,কি নাম বললে? বলাকা ওই মেয়েটার নাম বলাকা,নো
কিডিং।এই তুমি জানো আমার মায়ের
নামও বলাকা।
-জানি।
-কিভাবে জানলে?আমার মা কি তোমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছে?
-না না সেসব কিছু নয়।
-ওহহ্!তারমানে আমার প্রোফাইলটা তুমি ভালোই ঘেঁটেছো,তাইতো?এই শোননা,আমায় একদিন ওরকম একটা প্রেমপত্র দেবে গো? আমি কিন্তু ফ্লার্ট করছি না তোমার সঙ্গে।দ্যাখোনা ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপে তো কত প্রপোজাল আসে ,সব ওই বেশি বেশি স্মার্ট ,চালাক চালাক।বাট্ ওই যে তুমি বললে না প্রেমপত্র,ব্যাপারটা কিন্তু দারুন এক্সাইটিং লেগেছে আমার।আমায় কেউ প্রেমপত্র দিচ্ছে ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে আমার।দিওনা গো একদিন।তবে তার আগে আমায় তোমার একটা ভালো ছবি পাঠিও তো।তোমার প্রোফাইল পিকচারটা খুব অস্পষ্ট।আমি তোমার একটা হাসি মুখের ছবি দেখতে চাই।
-ছবি কেন?আমি তো নিজেই গিয়ে দেখা দিয়ে আসতে পারি তোমায়।
-আচ্ছা তাই নাকি?তা কবে আসছো?
-এখনই চলে যেতে পারি।
ওয়াও!নট ব্যাড।তোমাকে যতটা লাজুক ভেবেছিলাম ততটা একেবারেই নও দেখছি।
-যাবো কিনা বল?
-ওকে ,দেখি কিভাবে আসো?
-এসেতো গেছি।
-কোথায়?দেখতে পাচ্ছি না তো…এই যা!কি হবে এখন?
-কারেন্ট চলে গেল তো?
-হ্যাঁ, তুমি কি করে জানলে?
-বললাম তো।আমি এসে গেছি।তুমি কিন্তু ভয় পেয়োনা।অন্ধকারে তুমি আর একা নও।
-এই প্লিজ এভাবে বলোনা।আমার খুব ভয় করছে।
-কেন ভয় পাচ্ছ?আমি তো আছি।আমি তো হাসতে আর হাসাতে ভালোবাসি।আমার হাসি মুখটা দেখলে আর কোনো ভয় থাকবে না তোমার।বাজি।
-তুমি এভাবে কেন কথা বলছো?আমার কিন্তু একদম ভালো লাগছে না।খুব ভয় করছে।এবার কিন্তু আমি কেঁদে দেব।
-না না তুমি কেন কাঁদবে?এই দ্যাখো আমি তোমার দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছি,তোমার ঠিক সামনে।একবার তোমার মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটটা জ্বেলে আমার হাসি মুখটা দ্যাখো,তোমার সব ভয় কেটে যাবে।তিরিশ বছর আগে বলাকা আমায় অনেক কাঁদিয়েছে ,অনেক।এবার আমার কাঁদানোর পালা।একবার দ্যাখোনা আমার দিকে ,আলোটা জ্বালো।তাকাও আমার মুখের দিকে।না মুখ তো নয়,আমার করোটির দিকে তাকাও।দ্যাখো আমার বত্রিশ পাটি দাঁত বার করে আমি কেমন হাসছি।আমার গাল দুটো গলে খসে না পড়লে দেখতে,আমি হাসলে গালে কিরকম টোল পড়ে।দ্যাখো না দ্যাখো।সবাই বলত আমি হাসলে নাকি আমার চোখও হাসে।যদিও কপালের নীচে ওই অন্ধকার গর্ত দুটো দেখে তুমি আর কিছুই বুঝবে না।তবুও দ্যাখো।তোমার দিকে তাকিয়ে কেমন দাঁত ছিটকুটে হাসছি।হেঃ হেঃ হেঃ হেঃ…
সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here