‘যে যার অবস্থান থেকে কিছুটা তো করাই যায়’.. সভ্যতার অভিশাপে আজকের মানবিক এই বিপর্যয়ের দিনে “আলো ফাউন্ডেশন” এর সূর্য তরুনদের নির্বাক এক যুদ্ধের গল্প…..।

0
666

বীরভূম,  সৌগত রাণা কবিয়ালঃ- পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় যেমনটা তারুণ্যের চোখ সবসময় সমাজের মধ্যে বোধের যায়গায়টা ধরে রেখে এসেছে, তেমনটাই রাঙামাটির জেলা বীরভূমের প্রত্যন্ত ব্লক মুরারইয়ের একদল (২০ জন ) বিশ্বভারতী, কোলকাতা ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আলো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদী এই সমাজের চোখে চোখ রেখে সেই বোধের কাজটাই করে যাচ্ছে…!

গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত
নিজেদের বন্ধুমহল ও সমাজের সহৃদয় কিছু ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ছয়শ এর বেশী পরিবারকে মানবিকতা এই ভয়ংকরতম দূর্যোগের দিনে তারা পৌঁছে দিচ্ছে জীবন প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং পথে ঘাটে দিন রাত অক্লান্ত ছুটে মানুষের মাঝে প্রচার করছে করোনা যুদ্ধের এই সভ্যতার টিকে থাকার লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য উপযুক্ত সামাজিক সচেতনতা…!

তারা বর্তমান এই জরুরি পরিস্থিতিতে বিডিও এবং প্রসাশনের কথা মান্য করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে..!

আলো ফাউন্ডেশনের এই “আলো” যুবার দল প্রতিদিন কূপন হাতে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে সে সকল শ্রমজীবী পরিবারদের কাছে যারা লকডাউনের জেরে কাজের অভাবে খাবারের সঙ্কটে দিনযাপন করছে..!

লকডাউনের মতো এমন কঠোর মূহুর্তে ভেতরের মানবিক বোধের সুস্থ শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ঘরের ভেতর ওদের আটকে রাখতে পারেনি আরও আট-দশজন স্বাভাবিক মানুষদের মতো..
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে তারা মাস্ক এবং কূপন নিয়ে, স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের পরামর্শ অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কূপনে তারা সময় লিখে দিচ্ছেন যেন কোনোভাবেই ভিড় না হয়, উপযুক্ত সময়েই মানুষ এসে খাবার সংগ্রহ করছে..!

গত ১০ এপ্রিল এলাকায় এই ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরে ধাপে ধাপে এলাকা বাসীর কাছে ত্রান পৌঁছে দেয় সদস্যরা..!
ফাউন্ডেশনের কিছু সদস্য জানায়, ” এই কাজটি সম্পন্ন হতো না, যদি না কিছু সহৃদয় ব্যক্তি এবং আমাদের বন্ধু বান্ধবীরা পাশে থাকতেন, তাদের জন্য ধন্যবাদ জানানোর কোনো ভাষা এই সদ্য প্রতিষ্ঠিত সংস্থার নেই, এবং তাদের সহযোগিতা পাওয়ার ঠিক পরেই একদম দেড়ি না করে সেদিন সকাল থেকেই পথভিখারীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়, তারপর ধাপে ধাপে কেস্তারা, গুসকিরা কলপুকুর গোপালপুর ভাদীশ্বর গ্রামেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়…!
বিতরণ করা ত্রাণের মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আটা, সয়াবিন, আলু, পেয়াজ, লবণ এবং সাবানের মতো নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

প্রায় ৬০০ পরিবারকে মানবিক সাহায্যের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে
আলো ফাউন্ডেশনের এই তরুণ সদস্যরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ আবাস গড়তে বর্তমান প্রজন্মের সঠিক কর্ম দিশারি হয়ে এগিয়ে চলেছে “মানুষের জন্য মানুষ” মানবতার এই ভাবনাকে প্রকাশ করে…!

পৃথিবীর সবচাইতে বড় এই বিপর্যয়ের দিনে মানব ইতিহাসের জয়-পরাজয়ের খাতায় বিধাতা কি লিখেছেন, এখনো হয়তো আমাদের ঠিক জানা নেই..! তবে আলো ফাউন্ডেশনের এই সূর্য তরুণরা কিন্তু ইতিহাসটাকে নিজেদের মতো করে জয়ের হাসিটা মানুষের মুখের জন্য-ই বেঁধে দিতে নিজেদের যায়গাটায় দাঁড়িয়ে নিজেদের কাজটা ঠিক করে যাচ্ছে….!

মানুষ চাইলেই সব বদলাতে পারে..
একসময় প্রকৃতিতে কিন্তু মানুষই প্রথম ধানের শীষের উপর সূর্যের আলো দেখে মুগ্ধ হয়েছিলো…!

জয় হোক তারুণ্যের.. জয় হোক মানবতার…!

সৌগত রাণা কবিয়াল
( কবি সাহিত্যিক ও কলামিস্ট)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here