স্বাধীনতা মানে কি স্বৈরাচার! : শিপ্রা দে।

0
471

শোষিত ভারত স্বাধীন হোলো পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে
বহু বলিদানের আত্মকথায়।
ইংরেজ শাসন বন্ধ হলো
মানচিত্রের রূপ বদলে গেল।
কিন্তু,
বাস্তবতার কালক্ষেপণে-
মন কুটিরে প্রশ্ন জাগে,
পঞ্চাশোর্ধ পরেও কি
আমরা সত্যি কারের স্বাধীনতার মানে জানি?

যা পাওয়ার আশায় দুইশত বছর
বিপ্লবী খেলেছে রক্ত হোলি।
মায়ের বুকের আর্তনাদ,
বোনের বুক ফাটা কান্না
সবকিছুর অবসানে এসেছে স্বাধীনতা।

কিন্তু কাল চিত্রপটে-
এদেশের মানুষের মাঝে চলে রেষারেষি,
জাত-গোত্র, ধর্ম বিবাদে নিত্য হানাহানি।
বৈষম্য,খুন,ধর্ষণ,রাহাজানি প্রতিনিয়ত দেখে-
প্রশ্ন জাগে নিজের মনে,
এটাই কি আমার স্বাধীন ভারতবর্ষ!
যেখানে,
রক্তে ভেজে শ্যামল প্রান্তর?
অনাহারে অনলে পোড়ে
ক্ষুধার্ত অন্তর।
স্বাধীনতা মানে কী স্বৈরাচারী শাসক?
ঠগি সাধুর আশ্রমেতে ধর্মের নামে শোষক।
স্বাধীনতা মানে কী
বাস্তুহারার দু’মুঠো ভাতের লড়াই?
অট্টালিকায় নেতা-মন্ত্রীর
আরাম-আয়েশ বড়াই।
স্বাধীনতা মানে কী
কন্যা শিশুর ভ্রূণ হত্যা?
স্বাধীনতা মানে কী
অত্যাচারীর বিবেকহীন সত্তা?
স্বাধীনতা মানে কী অশীতিপর বৃদ্ধাশ্রম?
স্বাধীনতা মানে কী নাবালক শিশুর পণ্ডশ্রম?
স্বাধীনতা মানে কী ব্যভিচারে নারী ধর্ষণ?
স্বাধীনতা মানে কী অনাচারি যৌতুকের বর্ষণ?

আর কতকাল চলবে এভাবে?
মিথ্যে স্বাধীনতার নামে।
চাইনা এমন স্বৈরাচারী স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা পেতে গেলে, ছিঁড়ে ফেলে সকল শৃঙ্খল
মুক্ত বাতাস নাও প্রাণ ভরে।
প্রতিবাদ করো,দূর্গ গড়ো,সোচ্চার হও সকলে,
বৈষম্য দূর করো শান্তির বারি ধারা দাও ঢেলে।