উৎসব : অশোকা রয়।

0
274

কাশের দোলনে, সোনালী রোদে এসেছে শরত।
উৎসবের বাহার হরষে হাসে নন্দিত রবে।
মন্ডপে মহা জৌলুস,
মহা ধূমধাম।
ঢাকের বোলে কাঁসর বলে, মা এসেছেন আজ।
পোশাকের সাথে জুয়েলারীর চোখ ধাঁধানো ম্যাচিং।
সরগরম আসরে হুল্লোড় আর হাসি।
মেয়েটা মালা গাঁথে এক কোণে,
কমলা- সাদা শিউলির আপনমনে।
আধো মলিন মুখে শীর্ণ হাতে।
পরণে মলিন জামায় রিপুর দাগ।
কোঁকড়ানো চুলে তেলহারা অবিন্যাস।
ধূপ-ধুনোর ধোঁয়া- গন্ধে বাতাসে ভাসে মঙ্গলের আবাহণ।
পুরুত্ব মন্ত্র পড়ে, ওঁ সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে,

শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী, নারায়নী নমোঽস্তুতে।
মালা হাতে মেয়ে এগোয়,
পুরুতেরে কয়,
দাও না পরায়ে মালা খান মায়ের গলে।
মুহুর্তে হুলুস্হূলু।
পুরুত কয়, বে-লাগাম সাহস, মায়েরে করতে চাস অশুচি?
বাসী কাপড়, রুক্ষ কেশ।
একি ,পূজারিণীর বেশ?
মেয়ের দুচোখে ভাসা মেঘের খেলা.. পুরুত মশাই শুচি আমি সাতসকালে।
কুড়ায়ে ফুল গেঁথেছি এ মালা,
মনের আবেগে।
তবু মা নেবেন না?
অন্তরের শুচিতা কি কিছু নয়?
দেউড়ি দারোয়ান পায় বাবুর হাঁক,
ওরে কে কোথায় আছিস এরে বার কর ।
মেয়েটি ঘুরে দাঁড়ায়।
দৃপ্ত কন্ঠে কয়, ছুঁয়ো না আমায়।
দেবী যদি হয় অশুচি,
তোমরা তো তাঁর সন্তান।
জাত গিয়ে হবে বজ্জাত।
সে কি আমার সয়?
শুচি-অশুচি, ধনী- নির্ধনে ভেদ এ কোন শাস্ত্রে রয়?
নিস্তব্ধ মন্ডপ, নিস্তেজ জমায়েত।
মেয়েটি গেছে চলে।
শূন্যতা শুধু মন্ডপে
ঘুরে ফিরে।
পড়ে থাকা শিউলির মালা শিউরে ওঠে,
একি! অ সময়ের ঝড়ে সে যে উড়ে দোলে মায়ের গলে।
মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি।
মন্ডপ শূন্য।
বাইরে অঝোর ঝড়-জল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here