শুভেন্দুর দলবদলের বর্ষপূর্তি পালন তৃণমূলের,শান্তিকুঞ্জের অদূরে মিষ্টিমুখ করে উচ্ছ্বাস।

0
394

নিজস্ব সংবাদদাতা,পূর্ব মেদিনীপুর:- শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের বর্ষপূর্তিতে শান্তিকুঞ্জের অদূরে উচ্ছ্বাসে মাতল তৃণমূল নেতাকর্মীরা। প্রাক্তন যুব রাজ্য সভাপতির দল ছাড়ার এক বছর ‘উপলক্ষে’ কর্মীদের মিষ্টিমুখ করালেন বর্তমান জেলা যুব সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। প্রসঙ্গত গত ১৯ ডিসেম্বর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা তুলে নিয়ে স্লোগান তুলেছিলেন, ‘ভাইপো হঠাও’। তাঁর দলবদলের বর্ষপূর্তিতে শান্তিকুঞ্জের অদূরে উচ্ছ্বাসে মাতল তৃণমূল। প্রাক্তন যুব রাজ্য সভাপতির দল ছাড়ার এক বছর ‘উপলক্ষে’ কর্মীদের মিষ্টিমুখ করালেন বর্তমান জেলা যুব সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। মিষ্টি বিতরণ হল কাঁথি শহর জুড়ে।
শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েকমাস আগে থেকে রাজ্যের নানা স্থানে দেখা গিয়েছিল ‘দাদার অনুগামী’দের পোস্টার। আর তাঁর তৃণমূল ছাড়ার এক বছর পালনে কাঁথির বিভিন্ন স্থানে পড়ল তৃণমূলের কটাক্ষ পোস্টার। এইদিকে বিজেপির প্রতিক্রিয়া, ‘এ আসলে উশৃঙ্খল দিবস পালনের আরও এক ধাপ।গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর পরই তৃণমূল কংগ্রেস এই ১৯ ডিসেম্বর দিনটিকে ‘গদ্দার দিবস’ বলে ঘোষণা করে। আর এক বছর পর দেখা গেল গদ্দার দিবস বদলে হয়েছে উচ্ছ্বাস দিবস। রবিবার সকাল থেকেই কাঁথি শহরের রাজপথে বিভিন্ন বাতিস্তম্ভ, টেলিফোনের পোস্টে দেখা যায় বেশ কিছু ফ্লেক্স, পোস্টার। কোথাও রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। কোথাও রয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। আবার বেশ বড় করেই লাগানো রয়েছে ‘দেশের সব থেকে বড় সনাতনী’ লেখা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সংবলিত পোস্টার।যদিও এই পোস্টার লাগানোর পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো যোগ নেই বলে দাবি করেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আপনাদের থেকেই শুনলাম। আসলে উনি তো গত বছর এই রূপেই দেখা দিয়েছিলেন। আর বর্তমানে তাঁকে অন্য রূপে দেখছে মানুষ। তাই হয়ত নাগরিক সমাজের পক্ষে কেউ বা কারা এই কাজ করেছেন”। জনগণের কাছে ওনার আসল ছবি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ওঁনাদের।”এদিকে রবিবার ছুটির দিন সকাল সকাল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাড়ায় বেরিয়ে পড়েছিলেন কাঁথি তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরি, রামগোবিন্দ দাস, খোকন চক্রবর্তীরা। সঙ্গে কর্মী সমর্থকরা। বিরোধী দলনেতার পাড়ায় পথচলতি বাসিন্দা ও এলাকার স্থানীয় দোকানদারদের মিষ্টি বিতরণ করেন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আবার ‘উচ্ছ্বাস দিবস’-এ উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শুভেন্দুর পাড়ায় ভবতারিণী কালী মন্দিরে পুজো দেন সুপ্রকাশ গিরি। এতার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই দিনটি নাম রেখেছি গাদ্দার দিবসের বর্ষপূর্তি। আগামী কালঐতিহাসিক পদযাত্রা হবে। পদযাত্রায় সাক্ষী থাকবেন কয়েক হাজার মানুষ। এলাকার মানুষদের মিষ্টি বিতরণ করলাম। ভগবানের কাছে কান ধরে, নাক মুড়ে প্রায়শ্চিত্ত করলাম। আমরা একজন জননেতাকে বানিয়ে ছিলাম। যিনি গদ্দারি করে অন্যত্র চলে গিয়েছেন”।২০ ডিসেম্বর আবার তৃণমূল কংগ্রেস উচ্ছ্বাস দিবস হিসেবে ডাক দিয়েছেন। বিশাল পদযাত্রার পর কাঁথি কলেজ মাঠের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ, মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
এই বিষয় নিয়ে বিজেপির তরফে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “যারা এতদিন ওঁনার টাকায় খেয়েছেন,পরেছেন, নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করেছেন এবং নিজেদের পারিবারিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁরাই হয়ত এই পোস্টের লাগিয়েছেন। যত এইসব পোস্টার -ব্যানার লাগাবেন ততই প্রমাণ হবে আমাদের ওরা কত ভালবাসে।”