কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টারকে মেডিক্যাল কলেজের সাথে যুক্ত করার দাবি,পরিদর্শনে পার্থ-রাজীব।

0
361

মনিরুল হক, কোচবিহার: ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টারকে রাজ্য সরকারের অধিগ্রহণ করার উঠে আসছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এবার সেই দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টার পরিদর্শন করলেন জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় এবং কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি রাজীব প্রসাদ। আজ সকালে তাঁরা ক্যান্সার সেন্টারে গিয়ে বিভিন্ন দিক ক্ষতিয়ে দেখেন।

পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পার্থ বাবু বলেন, “ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যেম এই ক্যান্সার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ ওই বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বোর্ডের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের কাছে এই ক্যান্সার সেন্টারটি রাজ্য সরকারের দ্বারা যাতে পরিচালিত হয়, বিশেষ করে যাতে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়, তার আবেদন করেছেন। সেই কারণেই মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো সহ নানান দিক ক্ষতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন করা হল।”

কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভইপি রাজীব প্রসাদ বলেন, “ট্রাস্টের মাধ্যমে এই ক্যান্সার সেন্টার ভালো ভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ওনাদের পক্ষ থগেকে স্বাস্থ্য দফতরকে আবেদন করা হয়েছে বলে শুনেছি। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ পেলে, সেই নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ যদি এরকম একটি তৈরি পরিকাঠামো পায়, তাহলে ভালো হবে।”
১৯৮৯ সালে প্রয়াত ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা কমল গুহের উদ্যোগে কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টার গড়ে উঠেছিল। তারপর থেকে ট্রাস্ট বোর্ডের মাধ্যমে ওই ক্যান্সার সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে। মূলত আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা কোচবিহার ও সংলগ্ন এলাকার ক্যান্সার রোগীদের জন্য ওটাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু ট্রাস্টের আর্থিক ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সেভাবে কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টারের আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। ফলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতই থাকতে হয়েছে। সেই কারণেই ওই ক্যান্সার সেন্টারটিকে রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করে সেখানে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে উন্নত চিকিৎসার যাতে ব্যবস্থা করা হয়, সেই দাবি অনেকদিন থেকেই করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই দাবির পর এদিন জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান এবং মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপির ক্যান্সার সেন্টার পরিদর্শনে জেলার মানুষ আশার আলো দেখতে পারছেন।