সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – আবাদি সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ধনঞ্জয় নায়ে এক রুপকথার নায়ক।মধ্যবিত্ত কৃষিজীবী পরিবারে সন্তান হয়েও একটি জোতদার-জমিদার লাঞ্ছিত জনপদের দরিদ্র মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন আপোসহীন এক যোদ্ধা ছিলেন তিনি।
৫০-৬০ দশকের রাজনৈতিক পরষ্পরায় বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দলের অকুতোভয়,সৎ,নিষ্ঠাবান জননেতা নিজেকে উৎসর্গ করেন দেশ ও দশের সেবায়।বাসন্তী ব্লকে উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্ষেতমজুর আন্দোলনে। বিকল্প কৃষি,নদনদী ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা ছিল সুদূরপ্রসারী। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আজ মিথ।তিনিই সর্বপ্রথম বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন(১৯৭৮-১৯৮১)।
এতো কিছুর মধ্যেও তাঁর জীবন বলি দিতে হয়েছিল জোতদার-জমিদারের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতিদের হাতে।১৯৮১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী দুষ্কৃতিরা তাঁকে গুলি করে।কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারী বিপ্লবী নেতার মৃত্যু হয়।স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে দেহত্যাগ করেন তাঁর স্ত্রী চম্পবতী দেবীও।সুন্দরবনের ইতিহাসে সহমরণ বিরল এবং একই সাথে দুটি চিতার আগুনে বিপ্লবী দম্পতীর শেষকৃত্য করা হয়।যা কিনা দীর্ঘ ৪১ বছর পর ও ইতিহাস।
তাঁর জীবনদীপ নিভে গেলেও তাঁর দেখানো পথে বাসন্তী ব্লকের রাজনৈতিক ইতিহাস -তৎকালীন আর্থসামাজিক,সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে গভীর ছায়া ফেলেছে।
সেই বিপ্লবী ধনঞ্জয় নায়েকের জীবনী নিয়ে বুধবার বাসন্তীর শিবগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হল একটি বই। ‘ধনঞ্জয়-চম্পাবতী নায়েক – এক রূপকথার জীবন’।
বইটির সম্পাদনা করেছে সুন্দরবনের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক তথা সাংবাদিক প্রভূদান হালদার।
বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর,শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত শিক্ষক অমল নায়েক,বিবেকানন্দ পাল,কবি অমৃত মাইতি,নাট্যকার প্রলয় চৌধুরী,চন্দ্রশেখর দেবনাথ,লোকমান মোল্লা সহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব।
সংগ্রামী নেতার জীবনী নিয়ে বাসন্তীতে বই প্রকাশ।












Leave a Reply