কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে হাউস ড্যামেজ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেসের অপর এক পক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা ১ ব্লকের অন্তর্গত গীতালদাহো ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। এদিন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে তারা আভিযোগ করেন প্রধান ও অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রায় ১০০ জনের অধিক ভুক্তভোগীর টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞাত থাকলেও পরে জানতে পারেন, ১০০ জনের অধিক ভুক্তভোগীর নাম, আঁধার কার্ড নম্বর, মোবাইল নম্বর ঠিক থাকলেও ব্যাংকের একাউন্ট নম্বর সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। পরবর্তীকালে সেই সব ভুক্তভুগী নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার এসএমএস পেয়ে ব্যাংকে গিয়ে দেখে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। আর তারপরেই নড়েচড়ে বসে তারা। এদিন তারা সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে তদন্ত করার দাবী জানান, এবং এই ঘটনার সাথে যারা যুক্ত আছে তাদের শাস্তি দাবি করেন।
তবে এদিনের তাদের করা সাংবাদিক সম্মেলনের পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের অভিভাবক অভিজিৎ রায় জানান, তিনি যখন একাউন্ট নম্বর পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে পারেন সঙ্গে সঙ্গেই তার পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। অভিজিৎ আরও জানান, ইতিমধ্যেই তিনি এই মর্মে বিডিও অফিস, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গুলোকে সেইসব একাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন করেছেন। তিনি আরও জানান, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলেই এটা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সেই সব ভুক্তভুগীকে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তাকে ও তার স্ত্রী অর্থাৎ প্রধান মুক্তা রায় বর্মনকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনিও এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত দাবি করেন ও যদি কেউ এই ঘটনার সাথে ইচ্ছাকৃত ভাবে জড়িত থাকে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই গিতালদহ ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া ও ব্লক সভাপতি সঞ্জয় বর্মনের অনুগামীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি কোন্দলের জেরে গিতালদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিগত দিনের প্রধানকে অপসরিত হতে হয়। আর তারপর আজকে এই অভিযোগে কর্যট প্রকট হয়ে উঠছে কোন্দল।












Leave a Reply