ষ্টেশনের শৌচালয়ে আটকে শিশু,উদ্ধার কর্তা হকার।

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং –স্টেশনের শৌচালয়ে আটকে পড়া এক নাবালিকা শিশুকে উদ্ধার করলো এক হকার।ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং ষ্টেশনে। জানা গিয়েছে এদিন সকাল ১০ টা নাগাদ আপ শিয়ালদহ-ক্যানিং ট্রেন ২ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ছেড়ে গিয়েছিল। তখনও স্টেশন চত্বরে প্রচুর রেলযাত্রী রয়েছেন।সেইসময় ক্যানিং ষ্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মের শৌচালয়ে,শৌচালয় করার জন্য প্রবেশ করেছিলো বছর ১০ বয়সের আসমীরা মোল্লা নামে এক নাবালিকা ।শৌচালয়ের ভিতর থেকে দরজায় ছিটকানি আটকে যায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও শৌচালয় থেকে বের হতে না পারায় বিমর্ষ হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।এরপর সাধারণ রেলযাত্রীরা শৌচালয় করার জন্য শৌচালয়ের দরজা বন্ধ দেখে যে যার গন্তব্যে চলে যায়।শৌচালয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে বের হতে না পেরে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে ওই নাবালিকা।ছোট্ট শিশু কন্যার কান্না শুনে দৌড়ে আসেন স্টেশনের একদল হকার,নিত্য রেলযাত্রী সহ রেলপুলিশ।তাঁরা সকলে মিলে ওই নাবালিকা কে উদ্ধার করার কাজে হাত লাগায়।দীর্ঘক্ষণের চেষ্টা বিফলে যায়।অন্যদিকে যত সময় গড়িয়েছে শৌচালয়ের ভিতরে ওই নাবালিকার কান্নাকাটি ততটাই বেড়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষজন কি করবেন ভেবে উঠতে পারছিলেন না। একসময় শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।এমন সময় দৌড়ে আসেন হকার সিকান্দর সাহানী। শৌচালয়ের জানাল দিয়ে ওই নাবালিকা কে উদ্ধারের চেষ্টা করে। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ মিনিট রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর শৌচালয়ে ছিটকানি খুলতে সক্ষম হয় ওই হকার।দরজা খুলে যেতেই দৌড়ে বেরিয়ে আসে ওই নাবালিক।চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।
ওই নাবালিকা জানিয়েছে তার বাড়ি ক্যানিং থানার অন্তর্গত ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি কাছারীঘাট এলাকায় বাড়ি। এদিন সে তার এক আত্মীয়ের সাথে ক্যানিং ষ্টেশনে এসেছিল সন্তোষপুরে যাবে বলে।ষ্টেশনে শৌচালয় করতে গিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে পড়েছিল সে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক রেলযাত্রী প্রভাকর দাস জানিয়েছেন ‘ট্রেন থেকে নেমেই দেখলাম শৌচালয়ের কাছে প্রচুরষমানু ভীড় করে রয়েছেন।শৌচালয়ের ভিতর থেকে এক শিশুর কান্নার আওয়াজ আসছে।দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় হকাররা তাকে উদ্ধার করেছে। স্টেশনের হকারের এমন মানবিক কাজ কে কুর্ণিশ জানাই। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *