আর্থিক প্রতিকূলতায় স্বপ্ন পূরণের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেধাবী ছাত্রী মাম্পি দাসের।

0
109

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ- শিক্ষায় মেধা যখন আর্থিক প্রতিকূলতার কাছে হার মানে সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মনের মধ্যে নিজের তৈরি করা স্বপ্নের প্রদীপটা যেন ধীরে ধীরে নিভতে থাকে। আর্থিক প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই জীবন যুদ্ধে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেও পরবর্তী পথ অতিক্রম করার আগেই যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে সেই প্রতিকূলতা।এমনই ঘটনার সাক্ষী মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার কালিকাপুর গ্রামের এক মেধাবী ছাত্রী মাম্পি দাসের জীবন কাহিনী।

অভাবের সংসারে থেকেও স্কুল পেরিয়ে বর্তমানে কলেজের গণ্ডি। চাঁচল কলজে ভূগোল বিষয়ে স্নাতক দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখেছিল নিজেকে সেবিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার। গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা করা।বাবা কৃষ্ণ কান্ত দাস পেশায় টোটো চালক। বাড়িতে রয়েছে একটি বোন। বাড়ির বড় মেয়ে হয়ে নিজেকে সেবিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জীবন যুদ্ধে অতিক্রান্ত করেছে দীর্ঘ পথ। নিজের মেধা দিয়ে এবছর সরকারিভাবে জিএনম/এএনএমে রাজ্যের মেধাতালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছে সে। তবুও সেখানেও যেন আর্থিক প্রতিকূলতা কোনমতেই পিছু ছাড়ছে না। আর্থিক প্রতিকূলতায় স্বপ্ন পূরণের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারের যেখানে পড়াশুনা বিলাসিতা সেখানে নিজেকে সেবিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিমাসে যে পরিমাণ খরচ তার যোগান দেওয়া কোনভাবেই সাধ্য নাই তার পরিবারের। তাই আর্থিক প্রতিকূলতায় নিজের তৈরি স্বপ্ন এবং মেধার প্রদীপ যেন ধিক ধিক করে ক্রমশই নিভতে চলেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সাফল্য মেধা দিয়েই সফল হয়েছে মাম্পীর।অর্থাভাবে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারেনি।
কলেজে ভুগোল বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি জিএনম/এএনএমের প্রস্তুতি নেয় মাম্পি।ফলাফলে মেধা তালিকায় নাম এসছে তারা।তবে চাবিকাঠি অর্থ।সরকারি ভাবে সুযোগ পেলেও কিভাবে কয়েকটা বছর প্রশিক্ষণ চলাকালীন অতিরিক্ত খরচ বহন করবে।সেই ভেবেই দিশেহারা এখন দাস পরিবার।
মাম্পি জানান,পড়াশুনার পাশাপাশি কিছু করতে চাই।কিন্তু বাধা আর্থিক দিয়ে।
বাবা কৃষ্ণ কান্ত দাস বলেন,টোটো চালিয়ে সংসার চালাই।মেয়ের জন্য বাড়তি উপার্জন কিভাবে করব কূল পাচ্ছিনা।মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে আর্থিক সঙ্কট থাবা বসাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here