মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, ট্রাক্টরের চাকা পিষে দিল তিন বছরের এক শিশু কন্যাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা;১০অক্টোবর:- মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। ট্রাক্টরের চাকা পিষে দিল তিন বছরের এক শিশু কন্যাকে। ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটির মামা। শোকস্তব্ধ পরিবারবর্গ। ব্যাপক উত্তেজনা এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গাংনদীয়া গ্রামে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায় মৃত শিশু কন্যার নাম সুহানা খাতুন(৩)। গুরুতর আহত সুহানা খাতুনের মামা দিলখোশ আলী(১৯)। বাড়ি মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গাংনদীয়া গ্রামে। মামার মোটর বাইকে করে ছোট্ট ভাগ্নি গাংনদীয়া বাজার থেকে বাড়ির অভিমুখে ফিরছিল। অপরদিকে ডারল থেকে তুলসীহাটার অভিমুখে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছিল একটি ট্রাক্টর। মোটর বাইকের সঙ্গে ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ট্রাক্টরের চাকার নিচে পড়ে যায় ছোট্ট সুহানা। সংঘর্ষের ফলে দিলখোশ আলীর হাত এবং পা ভেঙে গেছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। পরবর্তীতে তড়িঘরি স্থানান্তরিত করা হয় পূর্ণিয়াতে। সুহানার মৃতদেহ উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। দুর্ঘটনার ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। রাস্তার অবস্থা এবং ট্রাক্টরের বেপরোয়া গতিকেই দায়ী করেছে স্থানীয়রা। রাস্তার দুই ধারে মাটি দিয়ে সমান করার কথা স্থানীয়রা বারবার বললেও করা হয়নি। এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা। ট্রাক্টরটি যে ঠিকাদারি সংস্থার ছিল সেই সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা অধীনে এই তিন কিলোমিটার রাস্তা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করেছে ঠিকাদাররা। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেরা চালাচ্ছে ট্রাক্টর। ট্রাক্টরের চালক পলাতক। ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতির সামাল দেয় পুলিশ। ট্রাকটরটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুহানা খাতুনের বাবা সাদ্দাম হোসেন দুই বছর আগেই মারা গেছে। ছোট্ট মেয়ের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে পড়েছে মা। কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারের সকলে। ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রশাসনকে জানিয়েছে গ্রামবাসী ।সাথে ক্ষতিপূরণ এবং শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন আলী বলেন, ট্রাকটারটি ব্যাপক গতিতে আসছিল। সজোরে ধাক্কা মারে মোটরবাইককে। এই রাস্তা অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করেছে ঠিকাদাররা। রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলেনি। আমরা প্রশাসনকে বলবো ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়।

কান্নায় ভেঙে পড়েছে সুহানার মা সুবুক্তা তিনি বলেন, মেয়ে আমার ভাইয়ের সাথে গেছিলো। এরকম ঘটনা ঘটে গেলো। স্বামী দুই বছর আগেই মারা গেছে। আমি কাকে নিয়ে থাকব?

গ্রামাঞ্চলে বেপরোয়া গতির ফলে ট্রাক্টর দুর্ঘটনা প্রথম নয়। বেপরোয়া গতির বলি হতে হয় সাধারণ মানুষদের। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ভব্যিষতে যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *