মালদহের অন্যতম কালী পুজো প্রাচীনত্ব, ঐতিহ্যের গোবরজনা কালীপূজা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ- আর মাত্র হাতে গোনা কয়দিন দীপাবলি।মালদহের অন্যতম কালী পুজো বলতে প্রাচীনত্ব, ঐতিহ্যের গোবরজনা কালীপূজা। জেলা সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার, ঝাড়খন্ড ‘গোবরজনা কালীপূজা’ নামে পরিচিত এই কালী পুজো।মালদা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে পুখুরিয়া থানার অন্তগর্ত আরাইডাঙ্গা গ্রামপঞ্চায়তের গোবরজনা গ্রাম সেই গ্রামে এই কালী পুজো হয়ে আসছে।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানা যায়,এই পুজো শুরু কালীপূজা শুরু করেছিলো ডাকাতেরা। তারা ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ডাকাতেরা শক্তির আরাধনা করতো।এই পুজো প্রায় ৩৫০ বছর ধরে হয়ে আসছে। ডাকাতের হাতে সৃষ্ট হওয়া পুজো এখন পুরানো রীতি, নীতি, মেনে হয়ে আসছে।ডাকাদের সময় পুখুরিয়া, আরাইডাঙ্গা এলাকায় ঘনজঙ্গলে ঢাকা ছিল।আস্তে আস্তে জঙ্গল পরিষ্কার হতে থাকায় ডাকাত দল গোবজনা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।এই এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট গ্রাম। এলাকার এক চৌধুরী পরিবার বংশপরম্পরায় এই পুজো চালিয়ে আসছে। স্থানীয় জ্যোতিষ চৌধুরীর পরিবারের বংশধররা বর্তমানে এই পুজোর দায়িত্ব থাকলেও এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসন সমগ্র দায়িত্ব ভার সামলে থাকেন। এই পুজোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগিতা করে এলাকার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। পুজোর কটা দিন মায়ের আরাধনা মত্ত থাকে গোটা এলাকা।এই পুজোতে যে যা চায় তার মনোকামনা পূর্ণ হয় এমনই ভক্তদের তাই, বিহার, ঝাড়খন্ড এমনকি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে মায়ের পুজো দিয়ে ভিড় জমায় এই মন্দিরে। প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার পাঠা বলি হয় এই মায়ের কাছে। বছরের প্রত্যেক মঙ্গল ও শনিবার ভক্তের সমাগম হয় মন্দির প্রাঙ্গণে। প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালিন্দ্রি নদীতে মায়ের প্রতিমা বিসর্জন করা হয় পুজোর পরে দিনই।এই পূজাকে ঘিরে অনেক কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে এই পূজার মেলা সহ পুজোর গহনা প্রশাসনের করা নজরদারি ও সিসিটিভি নজরদারিতে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *