রাসমেলায় পাঁঠার মাংস ও গরম ভাত বিক্রি করে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা মহিলাদের।

কোচবিহারঃ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাসমেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য এক নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে কোচবিহার ১ নং ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তারা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য নিয়ে এসেছে পাঁঠার মাংস ও গরম ভাত। তারা শুধু এই খাওয়াই বিক্রি করছেন না বরং সাধারণকে আয়ের দিশার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে তাদের হাতে বানানো এই মাংসের ঝোল ও গরম ভাত খেতে স্টলের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন মেলায় আসা সাধারণ আমনেতা। নিজেদের লালন পালন করা কিছু ছাগলের উপর ভর করেই তারা স্বনির্ভর হয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। এবারের এই রাস মেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অধীনে থাকা স্টোল দিয়েছেন উত্তরণ মহিলা প্রানীসম্পদ প্রোডিউসার কোম্পানি। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে এই মটন কষা ও গরম ভাত বিক্রি করে আয়ের উৎস খুঁজছেন তারা। তাদের তৈরি এই খাদ্যদ্রব্যের গন্ধে মম করছে গোটা মেলার চত্বর। আর এই কারণে বিকেল পাঁচটার পর থেকে ওই স্টলে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভোজনরসিকরা।
নিজেদের প্রতিপালন করা ছাগলের জন্যই রাসমেলায় নিজেদের স্টল করে লক্ষী লাভের আশা দেখছেন কোচবিহার 1 নং ব্লকের চিলকির হাটের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মহিলারা।

জানা যায়,প্রথমে তারা একটি নিজেদের স্বনির্ভর দল করে এলাকার ছাগল প্রতিপালন করতে শুরু করেন।‌ পরবর্তীতে সময় ও কালের নিয়মে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সংগঠন গড়ে ওঠে। এদিকে শুধু তো ছাগল প্রতিপালন করলেই হবে না বরং সেই ছাগলকে বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের লক্ষে তারা সেই ছাগলকে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন। পর সেখান থেকে যে অর্থ আসতো তা দিয়েই সংসার প্রতিপালন করতেন তারা আর সেই কারণেই ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে শুরু করেন আর কোচবিহার 1 নং ব্লকের চিলকিরহাটের এই মহিলারাই বর্তমানে আয়ের নতুন দিশা দেখাচ্ছেন সাধারণ মহিলাদের। এই মহিলারা বাণিজ্যিক ভাবনাকে পাথেয় করে ছাগল প্রতিপালনের পাশাপাশি সেগুলোকে বাজারে বিক্রি করবার আশায় এই কাজ শুরু করেন আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে। এদিকে তাদের এই ভাবনা রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের এই চিন্তা ধারাকে পাইলট প্রোজেক্টের আওতায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তারা ক্যাটারিং ও বিভিন্ন হোটেলে সরাসরি ভাবে মাংস সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়াও ঐ মহিলাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি মাংসের দোকান খুলেছেন বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত মহিলা ফুলমালা বর্মন বলেন, প্রথমবার আমরা নিজেদের প্রতিপালন করা ছাগলের মাংস নিয়ে মেলায় স্টলে বসেছি। সরকারিভাবে আয়ের উৎসকে পাথেয় করে আমরা মেলায় আয়ের মুখ দেখছি। আমরা স্টলে মটন কষা, মটনকারী সহ বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছি। সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রেখেই আমরা এই জিনিসগুলি বিক্রি করে যাচ্ছি। নিজেদের এভাবে মেলায় স্টল দিতে বেশ ভালোই লাগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *