গাঁয়ের রাস্তা ও নদীর উপর সেতুর দাবি।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার আমলাই অঞ্চলের অন্তর্গত এই গৌরীনগর গ্রাম । অনুন্নত এই গাঁয়ে দীর্ঘদিন ধরে তপশীলি মানুষের বসবাস । ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার সময় গৌরীনগর গ্রামবাসীরা পূর্ব পুরুষদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিঃস্ব ও ছিন্নমূল অবস্থায় এদেশে ঠাঁই নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন গৌরীনগর গ্রাম । মাথা গোঁজার ঠাঁই অতো সহজে ঘটেনি । নিঃসম্বল মানুষের অভিজ্ঞতা অতো মধুর নয় । এলাকাটা তখন ঘন জঙ্গলে ঘেরা । হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের বসবাস ।

স্থানীয় মানুষদের গৃহপালিত পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ, বাছুর, ইত্যাদির বিচরণ-স্থল ছিল ঐ জঙ্গল । সেখানের ঘন জঙ্গল কেটে গৌরীনগর গ্রাম । প্রথমে তাল পাতার ছাউনির ঘর । তারপর ধীরে ধীরে মানুষের স্থায়ী বসবাস । গ্রামটির পূর্বদিকে “বাবলা” নদী । ময়ূরাক্ষী নদী ও ভাগীরথী গঙ্গার শাখা নদী । নদীতে জল ভরা থাকে সর্বক্ষণ, আর তেমনি স্রোত । নদী পার হয়ে এক কিলোমিটার পথ হাঁটলে তবেই বাজারসৌ স্টেশনের দেখা মেলে । কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র রেলপথ ।
গৌরীনগর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি গাঁয়ের রাস্তার সংস্কার ও পাকা পীচ রাস্তার । স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরেও রাস্তাটি পাকা রাস্তায় পরিণত হয়নি । যারজন্য মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই । বর্ষাকালে এক হাঁটু কাদা । রাস্তার বিপজ্জনক অবস্থা । সম্ভবত দশ বছর আগে একবার মোড়ামের ব্যবস্থা হয়েছিল বটে, কিন্তু সেই মোরামের অবস্থা তথৈবচ । রাস্তা দিয়ে হাঁটা-চলা খুবই কষ্টসাধ্য । আমরা জানি, ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্প চালু অথচ তার ছিটেফোঁটার গন্ধ গৌরীনগর গ্রাম থেকে শত যোজন দূরে । বয়স্ক মানুষের ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চলাফেরায় হোঁচট খাওয়া, এখন গা-সওয়া । ইতিমধ্যে রাস্তার দাবিতে গ্রামবাসীরা দু-দুবার জেলাশাসকের (মুর্শিদাবাদ) নিকট স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন (১৬-৩-২০২৩ ও ১০-০৪-২০২৩) । আজও তাঁরা গাঁয়ের প্রায় দুই হাজার মিটার পাকা পীচ রাস্তার দাবি জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন ।
এছাড়া সামনে দিয়ে বয়ে চলেছে বিশাল “বাবলা” নদী । সেই নদী পার হয়ে এক কিমি হাঁটলে তবেই বাজারসৌ রেলস্টেশন । এমনকি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ, বাজার হাট, ইত্যাদি । তাই নদী পারাপার তাঁদের নিত্য জীবনের অঙ্গ । অথচ সেই “বাবলা” নদীর উপর সেতু নেই । পারাপারের দুর্ভোগের জন্য প্রায় সময় নির্দিষ্ট ট্রেন পাওয়া যায় না, স্কুলে ঠিক সময়ে পৌঁছানো যায় না । তা ছাড়া রয়েছে নৌকায় পারাপারে বিপদের ঝুঁকি । নদীর মাঝখানে যেকোনো সময় নৌকা ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা । গৌরীনগর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি “বাবলা” নদীর উপর ব্রিজ ।
এহেন গাঁয়ের রাস্তাটি পাকা রাস্তার দাবি নিয়ে এবং “বাবলা” নদীর উপর সত্বর ব্রিজ নির্মাণের আর্জি নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা শাসকের কাছে গ্রামবাসীরা দ্বারস্থ হয়েছিলেন ১৬-০৩-২০২৩ ও ১০|০৪|২০২৩ । গ্রামবাসীরা এখনও আশাবাদী, মুর্শিদাবাদ জেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তর গ্রামবাসীদের দুটো দাবি শীঘ্রই পূরণ করবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *