নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- সঠিক কাজে ব্যবহার হচ্ছেনা পুরসভার বিলি করা পচনশীল এবং অপচনশীল দ্রব্য রাখার বালটি। ব্যাঘাত ঘটছে বালুরঘাট পুরসভার স্বচ্ছতা অভিযানে। নাগরিকের সবুজ এবং নীল রঙের নিদিষ্ট বালটিতেই নোংরা আবর্জনা জমা করতে আবেদন পুরসভার। তবে পরবর্তীতে জরিমানার মত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বালুরঘাট পুরসভার তরফে।
জানা গিয়েছে, মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করছে বালুরঘাট পুরসভা।
নয়া পুরবোর্ড সেই প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বাড়ি বাড়ি তো বটেই, রাস্তাঘাটে জমা নোংরা আবর্জনা সংগ্রহে এই পুরসভায় বর্তমানে রয়েছে ১৬ টি ট্রাক্টার, ২ টি কম্পাকটর, ৬০ টি ই-গারভেজ টোটো, ৩০ টি পুরনো ট্রাই সাইকেল। আরও ২০০ ট্রাই সাইকেল মিলেছে। সেগুলোও নামানো হচ্ছে। এছাড়া টাইপার ২, ছোট হাতি (ছোট গাড়ি) ৪, ডামপার ১, জেসিবি ১ টি রয়েছে এই কাজে। এছাড়া এই প্রকল্পর জন্য আরও ৮ টি ট্রাক্টর ভাড়া নিয়েছে এই পুরসভা। পাশাপাশি আরও ২ টি ছোটা হাতি সহ ৭ টি নতুন গাড়ি নেওয়া হচ্ছে। যেগুলি টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
আগে রাস্তাঘাটে রাখা ডাস্টবিল এবং অলিগলিতে ফেলা নোংরা আবর্জনা সংগ্রহ হত । তবে বাড়ির জঞ্জাল ও নোংরা বাইরে ফেলায় দূষণ ছড়ানোর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয় পুরসভার ওয়ার্ডগুলি। সেটি রুখতে বছর দেড়েক আগে প্রতিটি বাড়িতে নীল সবুজ দুটি করে পৃথক বালতি দেওয়া শুরু করে পুর কর্তৃপক্ষ। যার একটি পচনশীল আরেকটিতে অপচনশীল নোংরা আবর্জনা জমা করতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়ে এলাকায় পৌঁছে যাওয়া আবর্জনা সংগ্রহকারী গাড়িতে সেগুলি ফেলার নিয়ম রয়েছে। বালুরঘাট পুরসভার ২৫ টি ওয়ার্ডে এখনও পর্যন্ত ৩০ হাজার বালতি বিলি হয়েছে। আরও ১৫ হাজার বালতি বিলি করা হবে বলেই খবর পুরসভা সূত্রে। অভিযোগ, পুরসভার দেওয়া এই বালটিগুলিতে বাড়ির নোংরা আবর্জনা জমা করছেন না অধিকাংশ নাগরিক। প্লাস্টিকের এই বালতি বাড়ির জল মজুত কিংবা অন্যকাজে ব্যবহার করছেন নাগরিকরা। প্যাকেটে করে বাড়ির জমা নোংরা আবর্জনা গোপনে বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরসভার মহৎ উদ্দেশ্য পুরোপুরি ফলপ্রসূ হচ্ছেনা।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক নাগরিকদের কথায়, পুরসভার দেওয়া বালটিগুলি ছোট মাপের। ফলে বালতিতে খুব বেশি আবর্জনা জমানো যাচ্ছেনা। এই প্লাস্টিকের বালতি বাড়ির অন্য কাজে ব্যবহার করছেন তারা। বাড়ির জমা আবর্জনা প্লাস্টিক বা অন্য ব্যাগে ভরে প্রতিদিন নিদিষ্ট গাড়িতে ফেলে আসছেন। এলাকা দূষিত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি ওই নাগরিকদের।
বালুরঘাট পুরসভার এমসিআইসি মহেশ পারাখ জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে আগেই। নির্মল সাথী, নির্মল বন্ধু প্রকল্পের ১০৮ জন মহিলাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা ২৫ টি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এব্যাপারে খোঁজখবর করছেন। তারা মানুষকে নীল সবুজ বালটি যথাযথ কাজে ব্যবহার করতে প্রচার করছেন। মহেশ বাবুর কথায়, চকভৃগুর ওয়ার্ডগুলি সহ এপারের কিছু বাড়িতে এই বালটি বিলি বাকি আছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলেই আমরা কড়া অবস্থান নেব বালটি ব্যবহার নিয়ে। যারা নিয়ম মানবেনা তাদের জরিমানা করব আমরা।
১/মহেশ পারেক পৌর এম,আই,সি
অপুর্ব মন্ডল বালুরঘাট বাস।
অনুপ রঞ্জন দাস
সঠিক কাজে ব্যবহার হচ্ছেনা পুরসভার বিলি করা পচনশীল এবং অপচনশীল দ্রব্য রাখার বালটি, ব্যাঘাত ঘটছে বালুরঘাট পুরসভার স্বচ্ছতা অভিযানে।












Leave a Reply