দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থভাণ্ডার নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় সদ্য-নির্বাচিত লেবার সরকার অনুভব করে, ক্রমাগত অস্থির হয়ে ওঠা ভারতের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের জনসাধারণের সমর্থন পাওয়া যাবে না এবং এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সাহায্যও পাওয়া অসম্ভব হবে। তাছাড়া স্থানীয় সেনাবাহিনীও যে এই কাজে নির্ভরযোগ্য হবে না, তাও সরকার অনুভব করে।এমতাবস্থায় ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অনুমোদন করতে চলেছে।
অবশ্য ভারতের নবনিযুক্ত ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তরের তারিখটি এগিয়ে আনেন। তার আশঙ্কা ছিল, কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে ক্রমাগত তর্কবিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির তারিখ ১৫ অগস্ট দিনটিকে ক্ষমতা হস্তান্তরের তারিখ হিসেবে বেছে নেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ব্রিটিশ ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। সেই সঙ্গে সরকার ঘোষণা করে, নবগঠিত দুই রাষ্ট্রকে অধিরাজ্য মর্যাদা দেওয়া হবে এবং ব্রিটিশ কমনওয়েলথ থেকে পৃথক হওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দু’টি রাষ্ট্রেরই থাকবে। এরপরই যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন (১৯৪৭) (১০ অ্যান্ড ১১ জিও ৬ সি. ৩০) অনুসারে ব্রিটিশ ভারত ভারত ও পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ড সহ) নামে দু’টি স্বাধীন অধিরাজ্যে বিভাজিত হয়। এই আইন কার্যকর হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট এবং সেই সঙ্গে নবগঠিত দুই রাষ্ট্রের নিজ নিজ গণপরিষদের উপর সম্পূর্ণ আইনবিভাগীয় কর্তৃত্ব অনুমোদিত হয়।
।। সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।












Leave a Reply