বালুরঘাট শহর সাংষ্কৃতি ও নাট্য চর্চার শহর হিসেবে পরিচিতি, কিন্তু ইদানিং সেই নাটকেরশহর নাট্য উৎসবে দর্শকের তেমন উপস্থিতি নজরে পড়েনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট : পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই থিয়েটার চর্চার এক উন্মাতাল ব্যাপকতা ও ঐতিহ্য আছে।কিন্তু নাটক যখন ভিডিয়ো হয়ে যাচ্ছে, দর্শক মোবাইলে দেখছেন,তখন মঞ্চে গিয়ে থিয়েটার দেখবেন, না অনলাইন— বর্তমানের অন্যতম বড় বিতর্ক সম্ভবত এটাই।এই দোটানার ফলে থিয়েটারে দর্শক বিমুখতা লক্ষ করার মত।বিশেষ করে এই প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে থাকায় সংকট নিয়ে থিয়েটারের কলাকুশলিদের কাছে তো বটেই এমন কি উৎকন্ঠা ও উদ্ব্যেগের বিষয়হয়ে দেখা দিয়েছে থিয়েটার প্রেমীদের কাছে। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ তারা।

বালুরঘাট শহর সাংষ্কৃতি ও নাট্য চর্চার শহর হিসেবে এই বাংলাতে পরিচিতি রয়েছে।কিন্তু ইদানিং সেই নাটকেরশহর নাট্য উৎসবে দর্শকের তেমন উপস্থিতি নজরে পড়েনি।জেলা ও জেলা ছাড়িয়ে নাট্যগোষ্টীর একডজন নাটক যেন শীতসন্ধ্যায় সমকালীন বাংলা নাটকের মহাভোজ।কিন্তু সেই মহাভোজে আগ্রহ নেই সমসাময়িক প্রজন্ম দর্শকের।
সব নাটক ভালো হয় না। তবে এই নাট্যোৎসবে প্রদর্শিত বেশ কিছু নাটকই ছিল ভালো। তবু দর্শক নাটক দেখতে আসছেন না। করোনার মহামারীর আগের নাট্যোৎসবগুলোয় ৮০ শতাংশ দর্শক হলেও এবার দর্শক হচ্ছে ৩০ থেকে ২০ শতাংশ। বন্ধের দিনে দর্শক একটু বাড়লেও তা তুলনামূলক কম।যা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে থিয়েটার প্রেমী ও কলাকুশলীদের।সাম্প্রতিক সময়ে মঞ্চ নাটকে দর্শকের তেমন সাড়া মিলছে না। দর্শকরা নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান বালুরঘাটের থিয়েটারের সাথে জড়িত জিশ্নু নিয়োগীর। তার আর ও অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের বাংলা নাটক এক তীব্র বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে এখন। দ্রুত হারে বদলে চলা সমাজ অর্থনীতি ও রাজনীতির ঢেউ একের পর এক আছড়ে পড়েছে নাগরিক মঞ্চে। কিন্তু নাটকে তার কোন উপস্থাপনা আজ আর তেমন চোখে পড়ে না, রাজনৈতিক কারনে।যা দর্শক দেখতে চায়।তার আরও দাবি এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত থিয়েটারকে বাচিয়ে রাখা।

অপরদিকে এক নাট্যা কুশলিবের দাবি মঞ্চে গিয়ে থিয়েটার দেখবেন, না অনলাইন— বর্তমানের অন্যতম বড় বিতর্ক সম্ভবত এটাই। তার আরও দাবি সব কিছুর ডিজিটাল সংস্করণ হয় না। নাটকটা আজও মঞ্চে এসেই দেখতে হয়।’’কলাকুশলীদের সঙ্গে দর্শকের প্রত্যেক মুহূর্তের আদানপ্রদান কেবল মঞ্চেই সম্ভব। নাটক দেখতে দেখতে কোনও বিশেষ মুহূর্তে এক সঙ্গে হেসে ওঠেন সবাই। কিংবা ফুঁপিয়ে কাঁদেন। সে তো মঞ্চের কলাকুশলীদেরও অনুভব করার মতো বিষয়। একদল বাড়ি থেকে নাটক করে ডিজিটাল আর্কাইভে তুলে দিল, আর এক দল বাড়ি বসে তা দেখল, সেটা আর যা-ই হোক ‘নাটক’ থাকে না।তবে একটু আশার আলো আস্তে আস্তে হলে ও নতুন প্রজন্ম কিছুটা হলেও মুখ ঘুড়িয়েছে থিয়েটারের দিকে।

শীতের রাতে নাটক দেখে নাটকের অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফেরা– এ সবই ভাল নাটকের অনুপ্রেরণা ও আনন্দ ডিজিটালে বা অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। এটাই তার কাছে আশার আলো।