মূল্যবান মনুষ্য জীবনে মহাকুম্ভের পূর্ণতাপ্রাপ্তি : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে প্রনবায় নমঃ…!

আমাদের মূল্যবান মনুষ্য জীবনে পৃথিবীতে মানবতার সবচেয়ে বড় সমাবেশ, বিশাল সমাবেশ, নীরব, নির্মল, আনন্দ ধর্মসভা প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভমেলা। এখানে নেই কোনো পশু হত্যা। নেই কোনো রক্তপাত। কোনো ইউনিফর্ম নেই। কোনো হিংসতা নেই। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। নেই কোন ধর্মান্তর। কোনো বিভাজন নেই। এখানে নেই কোনো বৈষম্য। এখানে বাণিজ্য নেই। এখানে শুধু ধর্মই বিরাজ করে। এটাই সত্য সনাতন হিন্দু ধর্ম। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এত বড় সংখ্যক লোক অন্য কোনো অনুষ্ঠানের জন্য জড়ো হয়নি—সেটি কোনো ধর্ম অনুষ্ঠান,খেলাধুলা, যুদ্ধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা উৎসব হোক। ভারতীয় সত্য সনাতন হিন্দু ধর্মে যুগ যুগ ধরে কুম্ভমেলা হয়ে আসছে। এই বছর যে মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো যা প্রতি ১৪৪ বছরে একবার হয়।

ভারতীয় সত্য সনাতন হিন্দু ধর্মে তীর্থক্ষেত্র প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ কাউকে খালি হাতে ফেরায়নি, যার যেমন মানসিকতা, সে ঠিক তার মতন বিষয় খুঁজে নিয়েছে। যে যা চেয়েছে সে তাই খুঁজে পেয়েছে। যার অন্তরে মহাকুম্ভ কে নিয়ে যেমন ভাবনা, যেমন আত্মজিজ্ঞাসা, যার যেমন জ্ঞানতৃষা সে ঠিক তেমনটাই খুঁজে পেয়েছে। যার যেমন ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পেয়েছে মহাকুম্ভে। যেমন:- ১) সাধুসন্তগণ খুঁজে পেয়েছে আধ্মাতিকতা । ২) ভক্তগণ ভগবান খুঁজে পেয়েছে। ৩)পুণ্যার্থীগণ খুঁজে পেয়েছে শুদ্ধ গঙ্গাজল। ৪)আস্থাশীল মানুষগণ পুণ্য খুঁজে পেয়েছে। ৫) আস্তিক মানুষগণ খুঁজে পেয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুব্যবস্থা। ৬) নাস্তিকগণ নোংরা, আবর্জনা আর অব্যবস্থা খুঁজে পেয়েছে। ৭)গরিব মানুষগণ খুঁজে পেয়েছে কর্মসংস্থান। ৮) ব্যবসায়ীগণ তাদের ব্যবসা খুঁজে পেয়েছে। ৯) ধর্মব্যবসায়ীরা খুঁজে পেয়েছে তাদের ধর্মব্যবসা । ১০)আর ভারতবর্ষ খুঁজে পেয়েছে তার আধ্মাতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।

সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী (ছল, চতুর, প্রতারক, চোর, নিন্দুক, দুর্নীতিবাজ, চাটুকার) ব্যক্তিগণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। যেমন, কর্ম তাদের মনোমতো হলে ভগবান, ঈশ্বর আছেন। আর কর্ম তাদের মনোমতো নাহলে ধূর..! ওসব ঈশ্বর, ভগবান, টগবান বলে কিছু নেই। তাই, তারা অন্তরে মহাকুম্ভ কে নিয়ে যেমন ভাবনা, যেমন আত্মজিজ্ঞাসা, যেমন নেতিবাচক দর্শন, সে ঠিক তেমনটাই খুঁজে পেয়েছে।

আর আস্থাশীল মানুষগণ, আস্তিকগণ নিজের মাঝে যে শুভ শক্তিটুকু “ঈশ্বর” আছেন সেটাই খুঁজে পেয়েছে। নিজের ভেতর থেকে যখন জানার আগ্রহ প্রবল হয়, সেই জ্ঞানতৃষা মেটানোর পথটুকুই ঈশ্বর। কর্মই ঈশ্বর, ঈশ্বর হচ্ছে জ্ঞান, ঈশ্বর যুক্তি, ঈশ্বরই মুক্তি। ঈশ্বর পেতে হলে নিজের ভেতরে অনুসন্ধান চালাতে হয়। শুভ ইচ্ছা নিয়ে নিজের ভেতরে খুঁজে বেড়ালেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। আত্মজিজ্ঞাসাই ঈশ্বর। তাই, আস্থাশীল মানুষ, আস্তিক মানুষ এতবড় মানবতীর্থের অংশ হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছে, মানসিক শান্তি পেয়েছে। জ্ঞানতৃষার স্বাদ পেয়েছে

উপসংহারে বলিতে পারি সাধু-সজ্জন, সংসারী, ত্যাগী, ভোগী, দেশী, বিদেশী, ঠগ, জোচ্চোর, পকেটমার… তপস্বী, জ্ঞানীব্যক্তি যারা ভিড় জমিয়েছিল, সবাই ফিরে গেছেন আপন কক্ষপথে, মেলা শেষ! আমিও মহাতীর্থের, মানবতীর্থের অংশ হতে পেরে ভারতমাতাকে ভূমিষ্ঠ প্রণাম, ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এমন একটি দেশে জন্মগ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছে, যে দেশটি বিশ্বে অনন্য এবং অদ্বিতীয়। ভারতবর্ষ এমন একটি দেশ যার ধারাবাহিকতা ও প্রাচীনত্ব দুটোই আছে। ভারতবর্ষ অনেক বিদেশীর দ্বারা বহুবছর ধরে আক্রান্ত ও অত্যাচারিত হয়েছে তবু তার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ আছে। সকলের জন্য জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ প্রার্থনা করি।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক*

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *