
দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- সত্যজিৎ প্রেমে গড়া এক অনন্য সংগ্রহশালা, অভিকের ঘরই যেন জাদুঘর। বাইকের গতি, ডিজিটাল বিনোদনের নেশা কিংবা চাকরির দৌড়ে যখন সমবয়সীরা ব্যস্ত, তখন অভিক জ্যোতি বিশ্বাস গড়ে তুলেছেন এক অনন্য স্বপ্নলোক একটি ব্যক্তিগত জাদুঘর। চোখে ভরা এক রাশ স্বপ্ন, পেশায় গৃহশিক্ষক। সঙ্গী লেখালেখি আর ছবি আঁকা এই নিয়েই দেদারে দিন কাটছে অভিক জ্যোতি বিশ্বাস ওরফে অভিকের। সত্যজিৎ রায়ের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে শুরু করে শিল্প, সাহিত্য আর ইতিহাসের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় তিনি সাজিয়ে তুলেছেন নিজের বাড়ির এক বিশেষ অংশ। ৩৩ বছরের অভিক পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও মন পড়ে থাকে গল্প, কবিতা লেখা আর ছবি আঁকায়। তার এই সৃষ্টিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তারই হাতে তৈরি এক ব্যতিক্রমী সংগ্রহশালা, যেখানে সত্যজিৎ রায়কে ঘিরে রয়েছে একাধিক সামগ্রী—বই, পোস্টার, মডেল, সিনেমার বিশেষ দৃশ্যাবলী, এমনকি ফেলুদা, গুপি-বাঘা চরিত্রদের নানা চিত্রকর্মও স্থান পেয়েছে সেখানে। ঘরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আছে তার শিল্পসত্তা। এই সংগ্রহশালার বিশেষত্ব হলো, এটি একেবারেই বিনামূল্যে খোলা। যে কেউ এলেই দেখে যেতে পারেন সত্যজিৎ রায় বিষয়ক বই, পোস্টার, সিনেমার স্মারক, এমনকি অভিকের নিজ হাতে আঁকা বিভিন্ন শিল্পকর্ম। শুধু সত্যজিৎ রায়ই নয়, অভিকের আগ্রহ রয়েছে ডাইনোসর নিয়েও। তাই ঘরে জায়গা করে নিয়েছে নানা ধরনের ডাইনোসরের মডেল। তার হাতে গড়া শিল্পকর্মগুলিও নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। অভিকের সংগ্রহশালার আরেকটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার নিজস্ব লাইব্রেরি, যেখানে সত্যজিৎ রায়ের বই ছাড়াও অন্যান্য সাহিত্য, প্রবন্ধ ও গল্পের বই সংরক্ষিত রয়েছে।
বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় অভিক। অবসর সময় কাটে রবীন্দ্রসংগীত শুনে। রবি ঠাকুরের গানের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা রয়েছে।
তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হতে পারে তরুণ প্রজন্মের কাছে। শুধুমাত্র ভালোবাসা আর নিষ্ঠা থাকলেই যে নিজের স্বপ্নের জগৎ তৈরি করা সম্ভব, অভিক জ্যোতি বিশ্বাস সেটিই প্রমাণ করেছেন।












Leave a Reply