অভিযোগকারী বিনীতা সিং ও তার সৎ মা আরতি সিংয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কারণে ফেক আইটি রেড। গোটা চক্রন্তের কান্ডারি সৎ মা আরতি সিং।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-  বাগুইআটি চিনারপার্কে একটি বাড়িতে ভুয়ো আইটি রেড এর ঘটনায় গ্রেফতার আট। এর মধ্যে পাঁচ জন CISF, একজন ড্রাইভার, একজন মিডিলম্যান, অভিযোগকারীর সৎ মা আরতি সিং। এই আট জনের মধ্যে মিডিলম্যান ও সৎ মা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে, এবং বাকিরা জেল কাস্টডিতে রয়েছে।এদের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ঐশ্বর্য সাগর ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ এয়ারপোর্ট ডিভিশন জানান…… ১৮ তারিখ বাগুইআটি থানাতে একটি অভিযোগ পাই, অভিযোগ করেন বিনীতা সিং। ওনার অভিযোগ যে ওনার বাড়িতে ১৭ এবং ১৮ তারিখের মিডনাইটে কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে আইটি ডিপার্টমেন্ট পরিচয় দিয়ে তার বাড়িতে রেড করে। রেড করার পরে ওনারা ক্যাশ টাকা এবং গহনা নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার সময় কোন সিজার লিস্ট কিছু দেয়নি। একটি সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বাড়িতে যে সিসিটিভি ছিল সেই সিসিটিভির ডিভিআর কেটে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা জানিয়ে যায় যে তারা যাতে কোনরকম যোগাযোগ করার দরকার নেই তাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে কন্টাক্ট করা হবে। প্রায় চার পাঁচ ঘন্টা পরে ওনার সন্দেহ হয়। সেই কারণে উনি ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের অফিসে চলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এরকম কোন রেড করা হয়নি। ১৮ তারিখ উনি বাগুইআটি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। বাগাটি থানায় যাওয়ার সাথে সাথে কেসটি নেওয়া এবং তদন্ত শুরু করা হয়। বাড়ির আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখা যায় দুটি গাড়ি করে তারা এসেছিল। একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি বাইকে। পিকআপ ভ্যানের নাম্বারটির ট্রেস করে প্রথমে ড্রাইভারকে অ্যারেস্ট করা হয় সাউথ পোর্ট এরিয়া থেকে। তাকে জিজ্ঞাসা বাদ করে জানা যায় তাকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল একজন মিডিল ম্যান। এই মিডিলম্যানকে অ্যারেস্ট করা হয় নিউ আলিপুর থানা এলাকা থেকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তাকে এই এই গাড়ি হায়ার করার জন্য বলেছিল সিআইএসএফের একজন থ্রি স্টার অফিসার মানে ইন্সপেক্টর। সমস্ত টেকনিক্যাল এভিডেন্স জোগাড় করে এই সিআইএসএফের ইন্সপেক্টর কে অ্যারেস্ট করা হলো ফারাক্কা থেকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানাজায় তার সাথে আরো চারজন সিআইএসএফ পার্সোনাল ছিল। এই চারজনের মধ্যে একজন হেড কনস্টেবল, দুজন কনস্টেবল আর একজন লেডি কনস্টেবল। হেড কনস্টেবল এবং একজন কনস্টেবল কে এরেস্ট করা হয় দুর্গাপুর থেকে, আরেকটি কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয় পোর্ট এরিয়া থেকে। আর লেডি কনস্টেবল যিনি চার মাস আরজিকর হাসপাতালে ডিউটিতে ছিল তাকেও গ্রেপ্তার করা হয় পোর্ট এরিয়া থেকে। আরতি সিং এবং বিনীত সিং এর মধ্যে সম্পত্তির জন্য ফ্যামিলি ডিস্পিউট ছিল। সেই কারণে আরতি সিং যিনি বিনীতা সিংয়ের সৎ মা তিনি এবং তার এক আত্মীয় সিআইএসএফের ইন্সপেক্টর এর সাথে যোগাযোগ করে এবং একটা ডিল করেছিল যে বিনীত সিং এর বাড়িতে রেড করে যা পাওয়া যাবে ক্যাশ টাকা, সেটা ৫০-৫০ করে নিয়ে নেবে এমনটাই ডিল হয়েছিল। সেটার জন্যই এই ফেক আইডি রেট কন্ডাক্ট করা হয়। এই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিনীতা সিংয়ের সৎ মা আরতি সিংহের সাথে সম্পত্তির বিষয় নিয়ে ডিস্পিউট চলছিল। ওনাদের অভিযোগ অনুযায়ী তিন লাখ টাকা বাড়ি থেকে নিয়ে গেছিল। এরপরে আরতি সিং কেও গ্রেফতার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *