
ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।
আমাদের এই মূল্যবান মনুষ্য জীবনে সত্য সনাতন ধর্মে হনুমান জন্মোৎসব বা হনুমান জয়ন্তী প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয়। মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্রের পরম ভক্ত হনুমানের জন্ম হয়েছিল মা অঞ্জনা ও পিতা কেশরির ঘরে। শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি তার অগাধ ভক্তি ও ভালোবাসার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। যিনি পবনপুত্র তিনি বায়ু দেবতার আধ্যাত্মিক পুত্র এবং শিবের অবতার হিসেবেও বিবেচিত হন। তিনি চিরঞ্জীবদের একজন হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সত্য সনাতন ধর্মে একজন দেবতা এবং রামায়ণের একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, পুরাণ ও শাস্ত্রে হনুমানকে শিবের অবতার বা রুদ্রের অবতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রামায়ণে আমরা দেখছি, হনুমান সীতাকে খুঁজে বের করতে এবং রাবণকে পরাজিত করতে শ্রীরামচন্দ্রেকে সাহায্য করেন। তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী সাহসী যোদ্ধা ও একজন জ্ঞানী বুদ্ধিমান ব্যক্তি। রামায়ণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মধ্যে হনুমান ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। মহাকাব্য মহাভারত এবং বিভিন্ন পুরাণ-এর মতো কয়েকটি গ্রন্থে হনুমানের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।
তিনি পবনপুত্র, কেশরীনন্দন এবং অঞ্জনার পুত্র নামেও পরিচিত ছিলেন ও শ্রীরামচন্দ্রের কাজে সাহায্যকারী একজন শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য চরিত্র। হনুমানকে বজরংবলী নামেও ডাকা হয়, যা তার শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক। হনুমানকে কলিযুগের দেবতা হিসাবেও মনে করা হয়। হনুমান বানরের মতো দেখতে, কিন্তু তার মধ্যে দেবত্বের শক্তি বিদ্যমান। হনুমান ভক্তদের রক্ষা করেন এবং তাদের বিপদ থেকে বাঁচান। তিনি ছিলেন শক্তি ও সাহসের প্রতীক। ভারতের বেশিরভাগ উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যে, এই উৎসবটি চৈত্র মাসের পূর্ণিমার দিনে পালিত হয়। হনুমান জয়ন্তী বা হনুমান জন্মোৎসব উৎসবটি হিন্দু দেবতা এবং রামায়ণের অন্যতম নায়ক হনুমানের জন্ম উদযাপনকে চিহ্নিত করে। হনুমান জয়ন্তী উদযাপন ভারতের প্রতিটি রাজ্যে সময় এবং ঐতিহ্য অনুসারে পরিবর্তিত হয়। তিনি শিবের অবতার এবং বায়ু দেবতার পুত্র হিসেবে পরিচিত, এবং তাঁর অসীম শক্তি, সাহস, এবং ভক্তির জন্য পূজিত হন। হনুমান চালিসা হনুমানের প্রতি ভক্তদের ভক্তি ও ভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। হনুমান চালিসা শ্লোকগুলি হনুমানের গুণাবলী ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
রামায়ণে আমরা দেখেছি রাম-রাবণের যুদ্ধে হনুমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, এবং লক্ষ্মণের জীবন বাঁচাতে গন্ধমাদন পর্বতটি এনেছিলেন। লক্ষ্মণের আঘাত সারানোর জন্য ঔষধি গাছ (সঞ্জীবনী) আনতে হিমালয় পর্বত থেকে “গন্ধমাদন পর্বত” তুলে এনে ছিলেন। হনুমান সাহসিকতা ও সেবার আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন। মানুষ মঙ্গলবার ও শনিবার বাড়িতে হনুমানের পূজা করে এবং উপবাস করে এবং লাল ও কমলা রঙের পোশাক পরে তাঁর প্রেম, প্রতিশ্রুতি, শক্তি এবং সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। হনুমান গুরুত্বপূর্ণ অমর বীর, তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, সাহসী এবং বুদ্ধিমান, যিনি মারুতি বা বজরঙ্গবলী নামে ও পরিচিত, তিনি হিন্দু ধর্মে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেবতা। বজরংবলীকে মহাদেবের অন্যতম অবতার হিসেবে মনে করা হয়। শ্রীরামচন্দ্রের পরম ভক্ত হনুমান হলেন অষ্টচিরঞ্জীবীর একজন। অর্থাত্ হনুমান হলেন অমর, তাঁর মৃত্যু নেই। হনুমানজিকে কলিযুগের দেবতা বলে মনে করা হয়। কারণ কলিযুগে একমাত্র তিনিই হলেন দৃশ্যমান দেবতা। শাস্ত্র অনুসারে মঙ্গলবার দিনটি হনুমানের উদ্দেশ্যে নিবেদিত, এই দিনে বজরংবলীর বিশেষ পুজো করা হয়। মনে করা হয়, হনুমান তাঁর ভক্তদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন। *পঞ্জিকা অনুসারে, এই বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথি ১২ এপ্রিল। তাই, হনুমান জন্মোৎসব উৎসব ১২ এপ্রিল শনিবার পালিত হবে।* মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্রের অনুগত ভক্ত বজরংবলী মহারাজের শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ আপনাদের সকলের শিরে বর্ষিত হোক… এই প্রার্থনা করি…!
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।

স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক*












Leave a Reply