
মেঘলা বিকেলের আলোটা তখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে। শিউলি গাছের নিচে বসে বই পড়ছিল অনন্যা। হঠাৎই পিছন থেকে কারো কণ্ঠ ভেসে এলো—
“অনন্যা… আজ একটু সময় হবে?”
ঘুরে তাকিয়েই অনন্যার চোখে পড়ে অয়নকে। কলেজের সবচেয়ে শান্ত আর সবচেয়ে সংযত ছেলেটা। অয়ন কখনো জোর করে কথা বলে না, কখনো কাউকে বিরক্তও করে না। তাই ওর এমন ডাকে অনন্যা একটু অবাকই হলো।
— “হ্যাঁ বলো… কী ব্যাপার?”
অয়ন একটু থমকে দাঁড়াল। তারপর ধীরে বলল—
“তোমার সঙ্গে একটা কথা ছিল… অনেক দিনের।”
অনন্যা কিছু বলার আগে অয়ন হাত বাড়িয়ে দিল। তার মুঠোয় ভাঁজ করা একটা ছোট্ট কাগজ।
চোখে মুখে কেমন এক অস্থিরতা—ভয়, আশা, অপেক্ষা সব মিলেমিশে আছে।
অনন্যা কাগজটা খুলল।
✉️ কাগজে লেখা—
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।
শব্দে হয়তো বোঝাতে পারবো না, কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার পৃথিবীটা যেন অসম্পূর্ণ।
তুমি যদি না চাও তবে আমি আর কিছু বলব না…
শুধু একবার তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ বা না শুনতে চাই।”
— অয়ন
কাগজটা পড়তে পড়তে অনন্যার চোখ জলে ভিজে উঠল। সে কখনও ভাবেনি অয়ন তাকে এভাবে ভালোবাসে। কিন্তু অনন্যাও কি অয়নকে ভালোবাসে?
হ্যাঁ—এটা তো সত্যি… কিন্তু ও কখনো সাহস করে বলতে পারেনি।
অয়ন ধীরে বলল—
“তোমার জবাব যদি ‘না’ হয়, আমি এখানেই চলে যাব। আর কখনো তোমাকে বিরক্তও করব না।”
অনন্যা চোখ তুলল। সামনের লোকটা যেন আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রত্যাশী মানুষ। অনন্যা কিছু না বলে কাছে গিয়ে দাঁড়াল। অয়ন কিছু বলার আগেই সে অয়নের দু’হাত ধরে বলল—
“আমি যদি বলি, আমিও তোমাকে ভালোবাসি?”
অয়ন থমকে গেল। যেন পৃথিবী থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
“তুমি… সত্যি?”
অনন্যা মাথা নেড়ে বলল—
“হ্যাঁ। অনেক দিন ধরে। শুধু বলতে পারিনি…”
হাওয়া তখন হালকা নরম। দু’জনের চোখে একসঙ্গে ঝিলমিল করা আনন্দ।
অয়ন অনন্যার হাত শক্ত করে ধরে বলল—
“তাহলে আজ থেকেই আমরা একসাথে? সবসময়?”
অনন্যা হাসল।
“শেষ আলোটা পর্যন্ত…”
শেষ আলো, কিন্তু ভালোবাসার শুরু
সেদিনের সূর্যাস্ত ছিল তাদের সম্পর্কের প্রথম সাক্ষী।
মেঘলা আকাশের মালভূমিতে দাঁড়িয়ে অয়ন আর অনন্যা প্রতিজ্ঞা করল—
জীবন যত অন্ধকারই আসুক, তারা দুজন একে অপরের পাশে থাকবে।
এটাই ছিল তাদের ভালোবাসার গল্প—
একটি কাগজ, একটি স্বীকারোক্তি, আর একটি শেষ আলোর অপেক্ষা।












Leave a Reply