
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জমি দেবার চারবছরেও মেলেনি চাকরি, বন্ধ কৃষকদের রুজিরোজগার! প্রতিবাদে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে রেললাইনে শুয়ে আন্দোলন জমিদাতা কৃষকদের। সোমবার রাত থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট রেলস্টেশন সংলগ্ন কাটনা এলাকায়। ঘটনার জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বালুরঘাটের সাইলো গোডাউন।
ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার অধীনস্থ এই সাইলো গোডাউনটি তৈরির সময় বালুরঘাটের বোয়ালদাড় মৌজার প্রায় ৪৮ বিঘা আবাদি জমি কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। ২০২১ সালে পরিবারের একজন করে চাকরি পাবে এমন লিখিত চুক্তির বলে এলাকার কৃষকরা সেই জমি তুলে দেয় সাইলো কতৃপক্ষের হাতে। আবাদি জমি নষ্ট হয়ে গেলেও, পরিবারের একজনের চাকরির টাকায় চলবেন এই আশাতেই প্রায় ৪০ জন কৃষক তাদের জমি হস্তান্তর করেছিলেন সাইলো কতৃপক্ষের হাতে। কিন্তু প্রায় পাচ বছর অতিক্রান্তের পরেও কৃষকদের পরিবারগুলিতে মেলেনি কোন চাকরি। যা নিয়ে বার বার আন্দোলনের মাধ্যমে সাইলো কতৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এব্যাপারে উদাসীন থেকেছে সাইলো কতৃপক্ষ বলেও অভিযোগ জমিদাতাদের। আর যার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাইলো গোডাউন পুরো তালাবন্ধ করে দেন জমিদাতারা। চলে তীব্র শীত উপেক্ষা করে রেললাইনে শুয়ে দিনরাত এককরে কৃষকদের আন্দোলনও। সরকারকে জমি দেবার পর চাকরির জন্য যে এভাবে রেললাইনে শুয়ে থেকে আন্দোলন করতে হবে তা তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বলে জানান জমিদাতারা। বিক্ষোভকারী কৃষকদের দাবি চাকরি নয়, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
বন্ধকারিরা বলেন, এলাকার প্রায় ৪০ জন কৃষকের কাছ থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একপ্রকার জোর করে জমি নিয়েছিল সাইলো কতৃপক্ষ। কিন্তু জমি নেবার পাচ বছর পরে চাকরি তো দুরের কথা, রুজিরোজগারের দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে তাদের। বারবার জানাবার পরেও কোন ফল না হওয়ায় তারা বন্ধ করে দিয়েছেন সাইলো গোডাউন। যতক্ষণ এই ব্যবস্থার সুরাহা না হবে ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।
সাইলো কতৃপক্ষের তরফে এখানে তাদের যে কাজ দেওয়া হচ্ছে তা করতে তারা রাজি নন। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।












Leave a Reply