গভীর রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কুশমন্ডি, ক্ষতির মুখে কৃষকরা।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গভীর রাতে আচমকা ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। প্রবল দমকা হাওয়ার দাপটে একাধিক কাঁচা বাড়ির ছাউনি উড়ে যায়, অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়।

কুশমন্ডি ব্লকের কোরঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু পরিবার। বহু মানুষের বসতবাড়ির টিন ও খড়ের চাল উড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ঝড় শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অনেক পরিবার রাতভর ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে।

শুধু বসতবাড়িই নয়, বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। মটকা মাঠ সহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ ভুট্টা ও গমের জমি ঝড়ের দাপটে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ফলে ফসল ঘরে তোলার আগেই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক চাষি জানিয়েছেন, কয়েক মাসের পরিশ্রম মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান কুশমন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মকর্তা রেজা জাহির আব্বাস। তিনি মাঠে গিয়ে ভুট্টা ও গম চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। কৃষকদের সমস্যার কথা শুনে তিনি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট প্রস্তুত করে প্রশাসনের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ পড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেন।

হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে এখনো আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *