
পূর্ব বর্ধমান, শুভ্র জ্যোতি ঘোষ:- পূর্ব বর্ধমান জেলার মাধবডিহি থানার অন্তর্গত বড়বৈনান দু’নম্বর অঞ্চলের বড়বৈনান গ্রামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক স্মশানকালী পুজো। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের প্রাচীন এই পুজো আজও ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
প্রতি বছর বাংলা চৈত্র মাসের ২ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ পুজো। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—দেবী মায়ের মূর্তি রাতেই তৈরি করা হয় এবং ভোরের আলো ফুটতেই নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়।
এই পুজোকে কেন্দ্র করে হুগলী, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হাওড়া থেকে শুরু করে কলকাতা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের ঢল নামে। শুধুমাত্র মায়ের মুখ দর্শনের জন্যই প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে বলে জানা যায়।
বর্তমানে মন্দিরের সেবাইত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন রায়নার রমানাথ ভট্টাচার্য। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পুজোর জন্য গ্রামে কোনও চাঁদা তোলা হয় না। ভক্তদের স্বেচ্ছা অনুদানেই সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়।
গ্রামের বাইরে থাকা বাসিন্দারাও এই পুজোর সময় ফিরে আসেন নিজেদের গ্রামে। সারারাত ধরে চলে গাজন পরিক্রমা, আর ঠিক রাত ১২টায় মাকে প্রধান মন্দিরের বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, বড়বৈনান গ্রামের ঘোষ বংশের দান করা জমিতেই এই পুজোর সূচনা। আগে ছোট পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে নতুন মন্দির গড়ে ওঠায় পুজো আরও বৃহৎ আকার ধারণ করেছে।
পুজো উপলক্ষে আলোর ঝলকানি, ডি জে সাউন্ড এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ছোট থেকে বড় সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন।
ভক্তদের বিশ্বাস—মায়ের কাছে কেউ আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করলে তিনি কাউকেই খালি হাতে ফেরান না।












Leave a Reply