সোনাখালী জঙ্গল লাগোয়া ‘অবৈধ’ নির্মাণে চাঞ্চল্য, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।

ধূপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বনদপ্তরের নাকের ডগায় সোনাখালী জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় ‘অবৈধ’ নির্মাণ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ধূপগুড়ি মহকুমার চামড়াগুদাম এলাকায়। হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডরের একেবারে পাশেই রাতারাতি উঁচু দেওয়াল নির্মাণ হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গল লাগোয়া একটি ব্যক্তিগত জমিতে প্রথমে অন্য ধরনের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে রিসর্ট বা হোমস্টে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের দাবি, হাতির করিডরের পাশে এই ধরনের নির্মাণ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবে। এর ফলে হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে।
এদিকে, বাসিন্দাদের অভিযোগ—আগেও বনদপ্তরের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বাধা দিতে গেলে নির্মাণকারীর পক্ষ থেকে হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, বনদপ্তরের মোরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জার চন্দন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জমিতে কী কাজ হবে, তা সরাসরি বনদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে পড়ে না।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগেও একই এলাকায় হাতির করিডর সংলগ্ন অন্য একটি জমিতে উঁচু দেওয়াল নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছিল বনদপ্তর। ফলে বর্তমান ঘটনায় বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এই ইস্যুতে প্রাক্তন কেএলও সদস্যরাও সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, বহিরাগতদের দখলে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *