‎হিলিতে রক্তদান ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরে সাড়া, ২৮ জনের স্বেচ্ছা রক্তদান।


‎হিলি, নিজস্ব সংবাদদাতা :- জেলার রক্ত সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিল মানবতা সমাজসেবী সংগঠন। সংগঠনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে শনিবার হিলির লাট্টুময়দান সংলগ্ন কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক সেবার এই উদ্যোগে এলাকাবাসীর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
‎আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন মোট ২৮ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, যার মধ্যে পাঁচজন মহিলা রক্তদাতা ছিলেন। জেলার রক্তভাণ্ডারে এই সংযোজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মত চিকিৎসক মহলের। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ বাসব সরকার। তিনি উপস্থিত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। এছাড়াও বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপারেনটেনডেন্ট ডাঃ বাসুদেব মন্ডল, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ অয়ন সিনহা, ডেপুটি সুপার ডাঃ অনিরুদ্ধ রায় এবং ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ দেবব্রত দে শিবিরে উপস্থিত থেকে উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানান। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত শিশু সুরক্ষা কর্মী সুরজ দাসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি হিলি বিএসএফের পক্ষ থেকে হানুতারাম ও সুজয় হালদারসহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে। বালুরঘাটের সুস্পর্শ মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এদিন শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। সাধারণ চিকিৎসা, দন্ত চিকিৎসা এবং চক্ষু চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করা হয়। জেনারেল ফিজিশিয়ান ডাঃ দিলাবার হোসেন, দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস. এস. চক্রবর্তী এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অর্পিতা চুনাকার ও ডাঃ বি. সি. পাত্র রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেন। শিবিরে মোট ৫৪ জন রোগী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সংগঠনের সভাপতি অঙ্গন সরকার জানান, “মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে।” উল্লেখ্য, সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই শিবির দিনভর চলতে থাকে এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *