
নিজস্ব সংবাদদাতা , বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর:- অভাব তার নিত্য সঙ্গী। শুধুমাত্র একটা ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে কষ্টের সৃষ্টি কাটে সংসার। কিন্তু তাতে কি? পার্টির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা কতটা হতে পারে তার একটা উদাহরণ অবশ্যই বালুরঘাটের চা দোকানি বিশু সরকার। তিনি ঘোষণা করেছেন,পরিবর্তনের কারণে আগামী তিন দিন তার দোকান থেকে বিনামূল্যে চা পরিবেশন করা হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বালুরঘাট শহরে যেন এক নতুন আবহ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের খবরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। আর সেই আনন্দই এবার মানবিক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে।
জানা গেলো,শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক চা দোকান ও ফুটপাতের ডালপুরি বিক্রেতারা টানা তিন দিন বিনামূল্যে চা ও ডালপুরি খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য চা বিক্রেতা বিশু সরকার ও ডালপুরি ব্যবসায়ী অরূপ মন্ডল, যারা কোনো রাজনৈতিক পদে না থেকেও নিছক ভালোবাসা থেকেই সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন। এদিন সকালে বিশু সরকারের দোকানের সামনে গিয়েই দেখা গেল তার দোকানের সামনে বিরাট অপেক্ষমান চা প্রেমীদের ভিড়।স্থানীয়দের মতে, আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল না হয়েও এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
” আমরা উনাকে জানি উনি ভীষণ দরিদ্র মানুষ কিন্তু সৎ.। বিজেপিকে ভালোবাসেন। তার দোকানে তাই চায়ে পে চর্চা মাঝেসাঝেই আমরা বসাই। এবার বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর উনি যেভাবে গ্যাটের টাকা খরচা করে আমাদের মতো চা প্রেমীদের চা খাওয়াচ্ছেন এবং খাওয়াবেন আগামী তিন দিন ধরে তাতে আমরা সত্যিই অভিভূত” জানালেন রতন সরকার । তাঁর মতে,পরিবর্তনের আনন্দে নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা এক অনন্য নজির।
নতুন সরকার এসেছে, আশা করছি ভালো কিছু হবে।”
বিশু সরকার বলেন,“আমরা কোনো বড় ব্যবসায়ী নই, তবুও মানুষের মুখে হাসি দেখতে ভালো লাগে। পরিবর্তনের আনন্দে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই বলেই এই উদ্যোগ।”
এদিকে রঘুনাথপুর ট্যাংক মোড় এলাকার ডালপুরি বিক্রেতা অরূপ মন্ডলের কথায়,“অনেকদিন পর আমাদের পছন্দের সরকার এসেছে। সেই আনন্দেই আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই খুশি ভাগ করে নিতে চাই। তাই তিন দিন ফ্রি ডালপুরি খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” জানা গেছে আপাতত সকাল আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত এই ডালপুরি বিতরণ চলবে।
সকালের পর থেকেই বহু মানুষ এই পরিষেবা গ্রহণ করছেন। শহরের রাস্তাঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।টোটন দাস নামে রংমিস্ত্রির এক সহকারী শ্রমিক জানালেন,“খুব ভালো লাগছে। আমরা গরিব মানুষ, এমনিতেই প্রতিদিন কেনা সম্ভব হয় না। আজ বিনামূল্যে চা আর ডালপুরি পেয়ে সত্যিই আনন্দ লাগছে”।
তবে যেভাবে দরিদ্র চার দোকানে বা ডালপুরি বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছায় গেটের টাকা খরচা করে মানুষকে খাওয়াচ্ছেন তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট: এই পরিবর্তন ছিল ভীষণই কাঙ্খিত, মানুষ তাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে আরেকটি নতুন যুগের।












Leave a Reply