
পরিচিতি:- কষা মাংস বাঙালির অন্যতম প্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী আমিষ পদ। রবিবারের দুপুর, দুর্গাপূজা, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়ন—সব ক্ষেত্রেই কষা মাংসের বিশেষ স্থান রয়েছে। ধীরে ধীরে মশলা কষিয়ে রান্না করার কারণে এই পদের নাম হয়েছে “কষা মাংস”। এর গাঢ় রং, মশলাদার স্বাদ এবং ঘন ঝোল ভাত, লুচি বা পরোটার সঙ্গে অসাধারণ লাগে।
উপকরণ (৫–৬ জনের জন্য)
খাসির মাংস – ১ কেজি
আলু – ৪টি বড়
পেঁয়াজ কুচি – ৫ কাপ
আদা বাটা – ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
টক দই – ১ কাপ
টমেটো – ২টি কুচি
হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ২ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১½ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
তেজপাতা – ২টি
দারুচিনি – ২ টুকরো
এলাচ – ৪টি
লবঙ্গ – ৫টি
চিনি – ১ চা চামচ
সরিষার তেল – ½ কাপ
ঘি – ১ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
গরম জল – প্রয়োজনমতো
প্রণালী
১. মাংস ধুয়ে দই, আদা-রসুন বাটা, হলুদ ও সামান্য লবণ দিয়ে ২ ঘণ্টা মেরিনেট করুন।
২. আলুগুলো অর্ধেক করে কেটে হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখুন।
৩. বড় কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন।
৪. পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ধীরে ধীরে গাঢ় বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
৫. টমেটো, ধনে, জিরা ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন।
৬. এবার মেরিনেট করা মাংস যোগ করে মাঝারি আঁচে ২৫–৩০ মিনিট ধরে কষতে থাকুন।
৭. মশলা থেকে তেল বের হলে ভাজা আলু যোগ করুন।
৮. প্রয়োজনমতো গরম জল দিন এবং প্রেসার কুকারে ৫–৬টি সিটি দিন অথবা পাত্রে ঢেকে নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
৯. মাংস সিদ্ধ হয়ে এলে চিনি, ঘি ও গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন।
১০. ৫ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে নিন।
পরিবেশন
গরম ভাত, বাসন্তী পোলাও, লুচি, পরোটা বা রুমালি রুটির সঙ্গে কষা মাংস পরিবেশন করুন। উপর থেকে সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিলে স্বাদ ও সুগন্ধ আরও বেড়ে যায়।
কিছু টিপস
কষা মাংসের আসল স্বাদ আসে দীর্ঘ সময় ধরে মশলা কষানোর মাধ্যমে।
পেঁয়াজ ভালোভাবে ভাজা হলে ঝোলের রং সুন্দর হয়।
রান্নার শেষে ঘি যোগ করলে সুগন্ধ অনেক বাড়ে।
পুষ্টিগুণ
খাসির মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধি এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
রন্ধন-ঐতিহ্য
কষা মাংস বাংলা রান্নার ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। জমিদার বাড়ির ভোজ থেকে শুরু করে আধুনিক রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই এই পদ সমান জনপ্রিয়। বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কষা মাংস আজও তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।












Leave a Reply